২৫ মে ২০২৬

শৈলকুপায় নিহতের ঘটনায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
শৈলকুপায় নিহতের ঘটনায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দীঘলগ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় বাদশা মোল্যা নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রামটি মৃত্যুপুরিতে পরিণত হয়েছে। গ্রামটি পুরুষশুন্য। মামলার আসামীদের বাড়িতে কেউ নেই। এই সুযোগে দূর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক পরিপাটি দালান বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে দীঘলগ্রামে। বাড়িতে থাকতে না পেরে এই শীতে মানবতার জীবন যাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ। তারা পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইলেও পুলিশ নিরাপত্ত দিতে পারেনি। দীঘলগ্রামটি ঘুরে দেখা গেছে, রহিম মোল্যার ছেলে টিপু সুলতান, টিটুল, মিটুল, মনো মোল্যার ছেলে মজনু, ফজলু, বিল্লাল, ছনো মোল্যার ছেলে নুর ইসলাম, হবিবার মোল্যার ছেলে মাসুদ, সুজন, মোখলেচ মোল্যার ছেলে তুষার, লিটন, ইব্রাহীম মোল্যার ছেলে চয়ন, মন্টু মোল্যার ছেলে জাহাঙ্গীর, আনোয়ার, দুলাল মোল্যার ছেলে লাকু, সাহেব আলী, ফটিক মোল্যার ছেলে হকছদ্দি, মাহাতাব, বক্কার মোল্যার ছেলে বাচ্চু ও ফিরোজ, মঙ্গল মোল্যার ছেলে রাজ্জাক, আফাঙ্গীর, জেনারুল, হামিদুর, নয়ন মোল্যার ছেলে বজলু, নজরুল, সাদ্দাম, গোলাম নবীর ছেলে লাল্টু, লাড্ডু, ইছাহাক মোল্যার ছেলে রেজাউল ও হাফিজুলের বাড়িঘরে দূর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে। এসব পরিবারের শতাধীক সদস্য মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। দীঘল গ্রামের সিদ্দিক মোল্যার স্ত্রী কুলসুম বেগম জানান, গত ৬ ডিসেম্বর বিকালে গরু চুরির ঘটনায় বাহারুল মোল্যা ও রহিম মোল্যার পরিবারের মধ্যে নারীদের ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রুপ নেয়। এ সময় বাহারুল সমর্থক বাদশা মোল্যা আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ ডিসেম্বর মারা যান। এঘটনার পর থেকে বাদশা মোল্যার সমর্থকরা তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে একতলা বিল্ডিং সহ প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমানে তারা অন্যত্র আত্মিয়ের বাড়িতে কষ্টে জীবন যাপন করছেন। দীঘল গ্রামের টিপু সুলতানে স্ত্রী টুম্পা খাতুন জানান, আমরা যদি অন্যায় করে থাকি তাহলে তার বিচার হোক কিন্তু আমাদের বাড়িঘর তো আর অন্যায় করেনি। সবই ভেঙ্গে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িঘর ভাংচুরের বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ খান বলেন,সামাজিক বিরোধে যে কোন হত্যার পর বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর এটা শৈলকুপার সংস্কৃতি। বাদশা নিহতেরপর অভিযুক্তদের মালামাল তারা নিজেরা প্রশাসনের সহযোগীতায় নিরাপদে সরিয়ে নেয়। তবে যারা প্রতিপক্ষরা ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে এ সুযোগে রাতের আধারে কিছু দূর্বৃত্ত বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্থরা যদি কোন অভিযোগ দেয় তাহলে তারা ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান। ওসি জানান, দীঘল গ্রামের বাদশা মোল্যা নিহতের ঘটনায় তার ভাই মিরাজ মোল্যা বাদী হয়ে ৩৭ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার ২৭ আসামী বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

FIRDAUS FASHIONS


FIRDAUS FASHIONS

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি