৩ এপ্রিল ২০২৬

সৈয়দপুরের স্বার্থে একসাথে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই : মেয়র আমজাদ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
সৈয়দপুরের স্বার্থে একসাথে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই : মেয়র আমজাদ

এম আর আলী টুটুল, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : করোনা দুর্যোগে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। দল মত নির্বিশেষে আসুন আমরা সবাই সৈয়দপুরের স্বার্থে এক হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। পৌর পরিষদ বৈশি^ক মহামারিতে সাধ্যমত অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষকে খাদ্য, অর্থ সহায়তাসহ শাক-সবজি বিতরণসহ করোনা উপযোগি উপকরণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

২ মে শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার এসব কথা বলেন। পৌরসভার সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পৌর কাউন্সিলরবৃন্দ ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে নগদ অর্থের বিনিময়ে সবজি, তরিতরকারি এবং শিশুখাদ্য ক্রয় করে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নীলফামারী জেলা ত্রাণ বিভাগ থেকে এ পর্যন্ত ৬৯ মেট্রিক টন চাল, উপ-বরাদ্দ ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ মিলেছে। সৈয়দপুর পৌরসভার নিজস্ব তহবিল হতে এ পর্যন্ত ৪০ মেট্রিক টন চাল এবং সবজি ক্রয় বাবদ ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ইতোমধ্যে ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানেও চাল, সবজি ও শিশু খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

পৌর মেয়র বলেন, নোভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ে কেউ গুজব ছড়াতে না পারে তার জন্য সজাগ থাকার আহবান জানান, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকজনকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাইরে থেকে ব্যক্তিবর্গের বাড়ি চিহিৃত করে হোম কোয়ারেন্টিন সম্বলিত ব্যানার টাঙ্গানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, গণসচেতনতার জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট, বিল বোর্ড ও হাত ধোয়ার ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্টে দলবেঁধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ও হাত ধোয়ার কর্মসূচি পালন করেছে। কাউন্সিলরবৃন্দ স্ব-স্ব ওয়ার্ডে উপস্থিত থেকে বিøচিং পাউডার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সাথে ভ্যাকট্যাগের মাধ্যমে বিøচিং পাউডার মিশ্রিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। আমাদের এসব কাজে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ব্র্যাক আরবান ডেভলোপমেন্ট প্রোগ্রাম, এসকেএস ফাউন্ডেশনের ওয়াশ ফোর আরবান পুওর প্রকল্প সাবিকভাবে সহযোগিতা দিচ্ছেন গণসচেতনতার জন্য। তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাস তথ্য আদান-প্রদানের জন্য পৌরসভায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মীদের অ্যাপ্রোণ ও কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। সেই সাথে মসজিদের ইমামদের নিয়ে মতবিনিময় সভাও করা হয়েছে।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাছ, মাংস, মুরগি ও কাঁচাবাজার পৃথক পৃথকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। পৌরসভার সেফটি ট্যাংক এলাকায় ময়লা- আবর্জনা অপসারণ করে তার পাশে কাঁচা সবজি বাজারের পাইকারী আড়ত অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র জানান, ইউএনডিপির প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের ১০ হাজার পরিবারের মাঝে ৪০ হাজার সাবান বিতরণ করা হয়েছে। পৌর এলাকার বস্তি এলাকায় ৫০টি পয়েন্টে হ্যান্ডওয়াশ ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং রকেটের মাধ্যমে ৬০০ জন পরিবারকে ১৫০০ টাকা প্রদানের ব্যবস্থাসহ সংস্থাটির উদ্যোগে জনসচেতনতায় মাইকিং করা হয়েছে।

ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ২ হাজার পরিবারের মাঝে ১ হাজার ৫শ’ টাকা করে মোট ত্রিশ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। লিকুইড সাবান দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার পরিবারকে ও সাবান দেওয়া হয়েছে ১৮ হাজার। হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার।

এসকে ফাউন্ডেশনের ওয়াশ ফর আরবান পুওর প্রকল্পের মাধ্যমে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার, বিলবোর্ড ২টি, ব্যানার ১৭টি ও হ্যান্ড ওয়াশ ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ২০ ড্রাম বিøচিং পডাউডার বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনার প্রভাবে পৌরসভার আয়-রোজগার নেই বললেই চলে। কিন্তু এ অবস্থায় চাল, ডাল ও অন্যান্য উপকরণ ক্রয় করে অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করছে। পৌর কাউন্সিলরবৃন্দ অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিতরণ করছেন। কিন্তু এক শ্রেণির সুবিধাবাদি লোকজন ত্রাণ পাওয়া লোকজনকে রাস্তায় এনে অপরাজনীতি শুরু করেছেন এবং কয়েকজন কাউন্সিলরকে এরই মধ্যে লাঞ্ছিত করেছেন। যা কারো কাম্য নয়।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, পৌর পরিষদ করোনা দুর্যোগেও মানুষের পাশে রয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণ, খাদ্য সহায়তাসহ সবধরণের সহায়তায় কাজ করছে পৌর পরিষদ। পৌরসভার কর্মকর্তা- কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছেন পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌরসভার সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তিনি বলেন, সকলের প্রচেষ্টায় অসহায় মানুষের পাশে অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। তাহলে এই অন্ধকার কেটে আসবে আলোর দিন। এ সময় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আইয়ুব আলী, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, তথ্য কর্মকর্তা আকমল সরকার রাজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিপি।আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি