৩ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা।- বাসস

তারা বলেছেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত। এ জন্য মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

ফজলুল হক বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান ছিল। ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় ৫ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। শ্রমিকদের অনুকূলে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত মালিকপক্ষও তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মেনে নিয়েছিল।

আগামী জানুয়ারিতে তিন বছরের এ সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি মিছিল বা আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সমাধান করতে হবে। এ জন্য মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফজলুল হক বলেন, শুধু বেতন বাড়ানোর দাবি করলেই হবে না, শিল্পের সেই বাড়তি ব্যয় বহনের সক্ষমতা রয়েছে কী না, সেটিও দেখতে হবে।

শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান নিয়মতান্ত্রিক পথেই হওয়া উচিত। সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দু’জন করে প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা রাখা প্রয়োজন।

কারখানা বন্ধের সংখ্যা সম্পর্কে ফজলুল হক বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে উত্তরা এলাকায় আট থেকে ১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এ মুহূর্তে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকাই সমীচীন।

এদিকে, রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর বর্তমান কমিটির নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই চলমান আন্দোলনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করা প্রয়োজন।

ফজলে শামীম এহসান বলেন, মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের পর আন্দোলনের দাবি ও এর পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

শ্রমিক অসন্তোষের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি