৪ এপ্রিল ২০২৬

সুবিধাভোগী বিশেষ গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার এই বাজেট : সুজন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
সুবিধাভোগী বিশেষ গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার এই বাজেট : সুজন

বাংলাপ্রেস অনলাইন : সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) অভিযোগ করে বলেছে,'সরকার সুবিধাভোগী বিশেষ গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার জন্য বাজেট' ঘোষণা করেছে ।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে নাগরিক প্রতিনিধিদের ভাবনা নিয়ে সুজনের এই গোলটেবিল আলোচনা।

এ সময় বক্তারা খেলাপি ঋণসহ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন। উন্নয়ন প্রকল্প নির্বাচন ও খরচের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। বাজেট নিয়ে আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ আর খরচের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘লুটপাটের ধারাবাহিকতা এই বাজেটের মধ্যে অব্যাহত আছে শুধু তাই নয়, সেটাকে আরো খোলাখুলিভাবে একটা পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার নীতি নেওয়া হয়েছে।’

অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প বলতে যা বোঝায়, সেটা আমরা কার্যকরভাবে দেখতে পারছি না। এক টাকার কাজ দশ টাকা দিয়ে হচ্ছে। জিডিপিতেও আমরা সেটার একটা ইমপ্যাক্ট দেখতে পারছি। তার মানে, জিডিপির প্রবৃদ্ধিটা এখানে একটা ফাঁপা জায়গায় পরিণত হচ্ছে।’

দারিদ্র্য কমার হার কমে গেছে উল্লেখ করে উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপারসন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আগে যে হারে দারিদ্র্য কমত, এখন সেই দারিদ্র্য কমার হার কমে গেছে। তার মানে, আমাদের যদি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয় দারিদ্র্য বিমোচন, তাহলে সেখানেও আমরা কিন্তু ভালো কাজ করছি না।’

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। এ ছাড়া সমাজে যে আয়বৈষম্য বাড়ছে, তা কমাতে প্রস্তাবিত বাজেটে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও মত দেওয়া হয় আলোচনায়।

এ ব্যাপারে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘যে প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের জিডিপি বাড়ছে, এতে কিন্তু একশ্রেণির মানুষ আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। কিন্তু যেসব কিছু সাধারণ মানুষের জীবনমানে প্রভাব ফেলবে, এগুলোতে কিন্তু আমরা ভালো করছি না। আমরা পুষ্টির দিক থেকে ভালো করছি না, আমরা শিক্ষার মানের দিক থেকে ভালো করছি না, আমরা স্বাস্থ্যের মানের দিক থেকে ভালো করছি না।’

অর্থনীতিবিদ ড. নাজনিন আহমেদ বলেন, ‘এত কিছুর উন্নয়ন হলো, ৫ পার্সেন্ট হোক, ৮ পার্সেন্ট হোক, গ্রোথ হলে আমার আয়বৈষম্য কেন হচ্ছে? এটার ব্যাখ্যায় সরকারকে আসতে হবে। ব্যাখ্যা না হোক, সেটার প্রচেষ্টায় আসতে হবে।’

এ ছাড়া বাজেটে কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা না দেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা করেন বক্তারা।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি