৩ এপ্রিল ২০২৬

‘সুদ’ এর আয় নিয়ে যা বললেন তাহেরি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০১ পিএম
‘সুদ’ এর আয় নিয়ে যা বললেন তাহেরি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরি। তবে সম্প্রতি তার নির্বাচনী হলফনামার তথ্য সামনে চলে আসে। সেখানে দেখা যায় তার আয়ের অন্যতম উৎস সুদ। এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। 

অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন ইসলামী ফ্রন্টের এই প্রার্থী। তিনি জানান প্রথমত বিষয়টিতে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আর একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপতথ্য ছড়িয়েছে। 

নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা যায়, আলোচিত এই ইসলামি বক্তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা, কৃষি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখানো হয়নি। 

তাহেরির পেশা ব্যবসা আর স্ত্রী গৃহিণী। সম্পদ যা আছে সবই নিজের নামে। স্ত্রীর নামে কিছুই নেই। এমনকি স্বর্ণ, গহনাও নেই। তবে নিজের নামে স্বর্ণ আছে ৩১ ভরি। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

হলফনামায় তাহেরি উল্লেখ করেছেন, আয়ের খাত ব্যবসা, কৃষি। কৃষি খাত থেকে বছরে আয় হয় ২৬ হাজার ৪শ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় করেন ৭ লাখ ৯১ হাজার। আর বন্ড, সঞ্চয়, আমানত ও  ব্যাংক সুদ বাবদ আয় হয় ২২ হাজার ৮৯২ টাকা।

নির্বাচনী হলফনামায় একই কলামে বন্ড, সঞ্চয়, আমানত থাকা স্বত্বেও সংবাদ মাধ্যমে কেন শুধু সুদকেই কেন উল্লেখ করা হলো, প্রশ্ন তুলেছেন তাহেরি। তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন হলফনামায় যে আইটেম উল্লেখ করেছেন, সে জায়গায় আমি যদি বলি ২টা পয়েন্ট আছে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, একটা হলো আপনি ব্যাংকে কত টাকা রেখেছেন, সেটা উল্লেখ করতে হবে। আর ব্যাংক টাকা রাখার পরে কী মুনাফা দিয়েছে সেটা উল্লেখ করতে হবে।’

তিনি জানান, সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলেও তার কাছ থেকে কেউই জিজ্ঞেস করেননি এখানে কোন খাত থেকে তিনি এই আয় করেছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে কলামটা উল্লেখ করেছেন, সেখানে বন্ড আছে, সঞ্চয়পত্র আছে, আমানত আছে, সেখানে সুদও আছে। আমি যে আমারটা উল্লেখ করেছি, আমি কি সুদের ওপর টিকমার্ক করেছি? যারা এই বিষয়টা উল্লেখ করেছে, তারা করেছে আমার কাছ থেকে না জেনে।’

‘একটা মানুষ কিন্তু দেখেন সুদের টাকা জমা হয়, এমনও তো হতে পারে যে কেউ সুদের টাকাটা অন্য কোথাও সওয়াবের আশা না করে দিয়ে দিল! সে এটা দিয়ে যেটা করল করল। এটা আমাকে জিজ্ঞেস করল না। আমি এটা কোন কারণে, কোন প্রেক্ষাপটে জমা হয়েছে, সেটাও আমাকে জিজ্ঞেস করল না!’ কেন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে আমাকে গায়ে পড়ে, ঈর্ষান্বিত হয়ে, কিছু কিছু মানুষ আমাকে টার্গেট করে মনে হচ্ছে, এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছিল!’

একই সঙ্গে একাধিক বিষয় না রেখে আলাদা আলাদা কলাম রাখা উচিত ছিল নির্বাচন কমিশনের, মনে করেন তাহেরি। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আমি মনে করি নির্বাচন কমিশন একটু চিন্তাভাবনা করা উচিত ছিল যে, একই সাথে বন্ড, সঞ্চয় আমানত, সুদ, এগুলো একসাথে না রেখে যদি আলাদা আলাদা কলামে রাখত, তাহলে কিন্তু আমরা কোন প্রেক্ষাপটে টাকা জমা রেখেছি, আর কোন পারপাসে এখানে আসছে, সেটা আমরা ওই ঘরে উল্লেখ করে দিতাম।’

‘এখানে ৪-৫টা বিষয় দেওয়ার পরও কেবল সুদটাই তুলে নিয়ে আসলেন, এটা কোন খেলা আমি বুঝলাম না ভাই! ৩০০ আসনের প্রার্থী তো হলফনামায় এটা উল্লেখ করেছে! আমার তো মাত্র ২২ হাজার ছিল, এখানে তো ৫ লক্ষ, ৭০ হাজার, ৯০ হাজার অনেকের অনেক টাকা এখানে উল্লেখ আছে। আপনি তাদেরটা ধরলেন না, আমারটা ধরলেন!’

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি