সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা টু গাছতলা সড়ক যেন মরণ ফাঁদ।
সাইফ উল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জ জেলা হাওর, বাওর,পাহাড় মিলেমিশে একাকার। প্রাকৃতিক সম্পদ আর পর্যটন সুনামগন্জ জেলা বাংলাদেশের দেশের মধ্যে অন্যতম।সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর এবং তাহিরপুর উপজেলা গার পাহাড়ের পাদদেশে বা সীমান্ত ঘেষা। তাহিরপুর উপজেলায় একাধিক পর্যটন কেন্দ্র যেমন বিশ্ব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুল বাগান, বারেকে টিলা,সহ অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র যা প্রতিদিন সমগ্র বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক এসব মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য ছুটে আসে।
পর্যটকদের যাতায়াতের অন্যতম সড়ক হল ধর্মপাশা, মধ্যনগর সড়ক। সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর ২০কিঃমিঃ সড়ক। তাঁর মধ্যে ধর্মপাশা ব্রীজ থেকে গাছতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণভাবে যান চলাচল এমনকি পায়ে হেটে চলাচলের অনুপযোগী বা অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে গাড়ি উল্টে বা গাড়ি সড়কের বাইরে পড়ে গিয়ে। সড়কের দুই পাশে ভাঙ্গনের ফলে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। দুই দিক থেকে আসা গাড়ী গুলো ক্রসিং করতে যেয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা।
এই একটি সড়ক যাতায়াতের অনুপোযোগী হওয়াতে স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটন, ব্যবসা-,বাণিজ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা। এই একটি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার, হাজার পর্যটক এবং দুই উপজেলার কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াত। সড়কওজনপদ ( সওজ)সুনামগঞ্জ অধিদপ্তর কার্যালয় সুত্রে জানা যায় ২০১৫ সালে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নেত্রকোনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে দেওয়া হয়।
২০১৭ সালে মধ্যনগরের পিঁপড়াকান্দা পর্যন্ত কিছু অংশের কাজ করা হয়। দুর্বল কাজ হওয়ায় এই অংশ টুকু যানবাহন এমনকি মানুষের পায়ে হেটে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশরাকান্দা অংশে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুবায়ের পাশা হিমু বলেন, এই একটি সড়ক এখন আমাদের গলা কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার জন্য ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা স্বাস্থ্য সব কিছু ব্যাঘাত করছে।
পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন ইকবাল বলেন,এই সড়কের কথা কইয়া আর লাভ নাই, এই সড়ক এখন হাত, পা, মাজা ভাঙ্গার অন্যতম কারণ। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে, যাত্রী ভাড়া এবং মালামাল আনা নেওয়াতে ভাড়াবেশি হওয়াতে, যার প্রভাব পড়েছে কেনাকাটায়।
গাছতলা বাজারের বণিক সমিতির সদস্য পাঠান সাদেক বলেন, আমরার সুনামগঞ্জের সড়ক সুনামগঞ্জের আন্ডারে দেওয়া হোক। আমরা নেত্রকোনা আন্ডারে থাকতে চাই না। হেরার সড়ক মেরামত থইয়া আমরার সড়ক হেরা কইরা দিত না।
সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা, সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে এই সড়কটি নেত্রকোনা সড়ক ও জনপদ বিভাগে কিভাবে স্থানান্তর করা হলো এটা আমরা জানতে চাই। কোন কলমের কুচায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। যার দরুন দুই উপজেলার মানুষ আজ চরম ভোগান্তিতে যাতায়াত করছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) জনি রায় বলেন,শুনেছি এই সড়কটির নাকি দরপত্র আহবান করা হয়েছে। কবে কখন এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম হবে তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না। তবে আমরা নেত্রকোনার সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি। বলেছি রাস্তায় ইটের সুড়কি দিয়ে বড় বড় গর্তগুলো যাতে ভরাট করে দেওয়ার জন্য। মানুষ যানবাহন নিয়ে চলতে পারে। আজকালের মধ্যে আবার যোগাযোগ করব।দেখি কি করা যায়। মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে এই সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে। এখন আর আশ্বাস দিতে চাইনা। যখন কাজ শুরু হবে তখন করব বিশ্বাস।
নেত্রকোনা সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ সালেহীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,, আজ অথবা কালের মধ্যে এক্সেভেটর যাবে ভাঙ্গাচুরা গর্তগুলো ভরাট করা দেয়া হবে। এবং আশা করি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ টেন্ডারের প্রতিক্রিয়া ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। এই সড়কটি নিয়ে ধর্মপাশা, মধ্যনগর মানুষ অনেক কষ্ট করছে। আশা করি কষ্ট লাগুক হবে ইনশাল্লাহ।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
এককালীন ২ কোটি ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা
মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় নোবিপ্রবি-ডিপিডিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
রুহিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, বেলাল সভাপতি, মিন্টু সম্পাদক
সঙ্গীত একাডেমি