৪ নভেম্বর ২০২৬

তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া সেই তরুণী আবারও রিমান্ডে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ এএম
তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া সেই তরুণী আবারও রিমান্ডে

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) আবারও রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত এ রিমান্ড আদেশ দেন।


এর আগে, এ মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আবারও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যান জেরিকা তাসনিম দিশা। এছাড়াও ঘটনার আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ এ গিয়েছিলেন। একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে এই মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গেও দিশাকে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এছাড়া ভিকটিম তাহসিফের সঙ্গে দিশা রেস্টুরেন্টে অবস্থানসহ মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেছিলেন। নিহত তাহসিফের মোবাইল কললিস্ট (সিডিআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে তার একাধিকবার ফোনালাপের প্রমাণ রয়েছে।


তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, অন্য অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, আলামত উদ্ধার এবং অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য ক্রস-চেক (মুখোমুখি যাচাই) করার জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।


গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।


তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় ৩০ অক্টোবর রাতে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।


মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর আমার ছেলে কে এম তাহসিফ সাউরি আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার পর দীপ নামে তার এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বাইরে যায়। রাত বেশি হলেও ছেলে ফিরে না আসায় তার মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করলে সে জানায়, কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবে। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার ফোন থেকে মায়ের ফোনে ভয়েজ মেসেজ পাঠায়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু রাত পেরিয়ে পরের দিন বিকেল হলেও সে ফিরে আসেনি।


২৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোনের মাধ্যমে আমাকে জানায়, রাজারবাড়ি ঘাট উত্তরখান এলাকাতে তুরাগ নদ থেকে আমার সন্তানের মরদের উদ্ধার হয়েছে। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌপুলিশ আমার কাছে আমার সন্তানের মরদেহ হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় রীতি সম্পন্ন করে ২৯ অক্টোবর বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

বিপি/কেজে
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি