১০ জুন ২০২৬

তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই পরামর্শগুলো

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই পরামর্শগুলো

সংগৃহীত ছবি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   আকাশে সূর্য ওঠার পরপরই বাতাসে আর্দ্রতা বাড়তে থাকে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়তে থাকে পারদ। এমন গরম ও গুমোট আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। এ বছর বাংলাদেশে রমজান মাসজুড়েই বেশ কয়েক দফায় তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও ওপরে। মাঝে কয়েক পশলা বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও তাপপ্রবাহ আবারও ফিরে এসেছে। আর এটি স্পষ্ট যে, পুরো গ্রীষ্মকালজুড়েই আবহাওয়া এমন থাকবে, এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপও হতে পারে।

অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়ে। যেহেতু আমরা চাইলেই আবহাওয়াকে রাতারাতি বদলে ফেলতে পারব না, তাই আমাদের যা করণীয় তা হলো—জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এই আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া।

পোশাক নির্বাচনে সতর্কতা

তীব্র গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ হলো সঠিক পোশাক নির্বাচন। সুতি বা লিনেনের মতো প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হালকা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, যাতে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে। এতে ঘাম কম হবে এবং শরীর স্বস্তিতে থাকবে। এ সময় কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক এড়িয়ে চলা উচিত; কারণ গাঢ় রঙ তাপ শোষণ করে শরীরকে আরও বেশি গরম করে তোলে। অন্যদিকে, হালকা রঙের পোশাক সূর্যের আলো প্রতিফলন করে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

শরীর হাইড্রেটেড বা সচল রাখা

গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হলেও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। চরম আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর তরল বের হয়ে যায়। তাই এই ঘাটতি মেটাতে সারাদিন ধরে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। সোডার মতো অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য (ডিহাইড্রেট) করে তোলে। এর বদলে ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা তাজা ফলের রসের মতো প্রাকৃতিক পানীয় পান করুন। শরীর সতেজ রাখতে তরমুজ, কমলা এবং শসার মতো পানিজাতীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।

কাজের মাঝে বিরতি

অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শরীর বেশি ঘামে। তাই যেকোনো শারীরিক পরিশ্রম বা কাজ করার সময় কিছুক্ষণ পরপর বিরতি নিন এবং শরীরকে ঠান্ডা হতে দিন। বিশেষ করে যারা রোদে বা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি খুবই জরুরি। বিরতির সময় ছায়াযুক্ত স্থানে বসুন, মাথার টুপি বা ক্যাপ খুলে ফেলুন এবং প্রচুর পানি পান করুন। এটি আপনার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং হিট স্ট্রোক বা অতিরিক্ত ক্লান্তির হাত থেকে বাঁচাবে।

ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়

বাইরে গরমের তীব্রতা থাকবেই, তবে এ সময় ঘর ঠান্ডা রাখা আবশ্যক। ঘরে এসি (এয়ার কন্ডিশনার) থাকলে তা ব্যবহার করতে পারেন। এসি না থাকলে ফ্যানের বাতাস যেন ঘরের চারদিকে ঠিকমতো ছড়ায়, সেভাবে ফ্যানটি রাখুন। দিনের বেলা ঘরের পর্দা টেনে রাখুন যাতে সরাসরি সূর্যের আলো ভেতরে ঢুকতে না পারে। আর রাতের বেলা জানালা-দরজা খুলে দিন, যাতে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে পারে।

নিয়মিত গোসল ও শরীর ঠান্ডা করা

শরীরের তাপমাত্রা কমাতে এবং স্বস্তি পেতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে পারেন। বেশি গরম ও অস্বস্তি লাগলে দিনে কয়েকবার গোসল করা যেতে পারে। এ ছাড়া একটি স্প্রে বোতলে ঠান্ডা পানি নিয়ে মুখে ও শরীরে স্প্রে করাও বেশ কার্যকর। এটি ঝামেলার মনে হলে, একটি ভেজা তোয়ালে বা রুমাল দিয়ে কিছুক্ষণ পরপর মুখ ও হাত মুছে নিতে পারেন।

রোদের তীব্রতা এড়িয়ে চলা

তীব্র তাপপ্রবাহের সময় খুব প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি বাইরে যেতেই হয়, তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ছাতা, মাথায় টুপি এবং পর্যাপ্ত খাবার পানি সঙ্গে রাখুন। বিশেষ করে দুপুরের দিকে যখন রোদের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন বাইরে বের না হওয়ার চেষ্টা করুন।

সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ

গরমের দিনে সাধারণত হজমের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই এ সময় হালকা ও সতেজ খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও গুরুপাক খাবার এই গরমে আপনার অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেবে। তাই সহজে হজম হয় এমন খাবার যেমন—সালাদ, ফলমূল এবং শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখুন। স্যুপ বা ঝোলজাতীয় খাবারও এ সময় বেশ উপকারী।

গরমের দিনে মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এটি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গরমের দিনে পেটের রোগ ও হজমের সমস্যা থেকে বাঁচতে রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবার খাওয়া পুরোপুরি পরিহার করতে হবে। সূত্র: দি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি