৭ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্প আমলে বিয়ের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে বাড়ছে কড়াকড়ি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
ট্রাম্প আমলে বিয়ের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে বাড়ছে কড়াকড়ি

বিয়ের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে বাড়ছে কড়াকড়ি

আবু সাবেত: মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির কারণে আরও কঠোর ও দীর্ঘায়িত হয়ে উঠেছে। যদিও বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড এবং পরবর্তীতে নাগরিকত্ব লাভ এখনও বৈধ ও প্রচলিত একটি পথ, তবুও অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, নতুন নীতির ফলে আবেদনকারীদের আরও বেশি যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এনপিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এখনও তাদের বিদেশে জন্ম নেওয়া স্বামী বা স্ত্রীকে গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করতে পারেন এবং পরে তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে সম্প্রসারিত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই, অতিরিক্ত সাক্ষাৎকার এবং আবেদন নিষ্পত্তির আগেই কিছু আবেদনকারীকে বহিষ্কারের ঝুঁকির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, এসব পরিবর্তনের উদ্দেশ্য আইন পরিবর্তন নয়; বরং জালিয়াতি প্রতিরোধ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার (ইউএসসিআইএস) মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, 'আমাদের উন্নত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অভিবাসন সুবিধা দেওয়ার আগে জালিয়াতি, জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।'
তিনি আরও বলেন, 'কোনো অভিবাসন আবেদন দাখিল করা বা অনুমোদন পাওয়া কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অভিবাসন মর্যাদা দেয় না এবং বহিষ্কার থেকে সুরক্ষাও নিশ্চিত করে না।'
ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসন আবেদন অনুমোদিত হলেও, কেউ যদি অন্য কোনো কারণে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার দ্রুততম পথগুলোর একটি। কারণ, মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীকে “ইমিডিয়েট রিলেটিভ” হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ফলে তাদের ওপর বার্ষিক ভিসা কোটার সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হয় না।
গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অধিকাংশ আবেদনকারী তিন বছর পর মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন, যদি তারা এখনও মার্কিন নাগরিক জীবনসঙ্গীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে এবং একসঙ্গে বসবাস করেন। এছাড়া তাদের ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, নির্ধারিত সময় শারীরিকভাবে দেশে অবস্থান, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং নাগরিকত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়।
সাধারণত পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয় মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) আবেদন করার মাধ্যমে।
আবেদনকারী দম্পতিকে প্রমাণ করতে হয় যে তাদের বিয়ে প্রকৃত এবং কেবল অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এজন্য যৌথ বসবাস, যৌথ ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন নথিপত্র জমা দিতে হয়।
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ব্যক্তি বিয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা লাভ করেছেন, যা ওই বছরে প্রদত্ত মোট গ্রিন কার্ডের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বর্তমানে বিয়ের ভিত্তিতে করা আবেদনগুলোতে অতিরিক্ত সাক্ষাৎকার, আরও বেশি প্রমাণপত্র চাওয়া এবং বিস্তৃত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হচ্ছে।
অভিবাসন আইনজীবী চার্লস কাক বলেন, 'একসময় বিয়ে ছিল নাগরিকত্ব পাওয়ার সহজ পথ। এখন সেই পথে অনেক বাধা তৈরি হয়েছে।'
আরেক অভিবাসন আইনজীবী রোজিনা স্ট্যামবাউ বলেন, বর্তমান কঠোর আইন প্রয়োগের পরিবেশে অনেক পরিবার বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতেও ভয় পাচ্ছে।
তার ভাষায়, 'মানুষ আতঙ্কিত। অনেক দম্পতি আবেদনই করছেন না, কারণ তারা আশঙ্কা করছেন মামলার নিষ্পত্তির আগেই বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটক বা বহিষ্কার করা হতে পারে।'

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি