ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রিন কার্ড নীতির পরিবর্তন ঠেকাতে সিনেটরের উদ্যোগ
গ্রিন কার্ড নীতির বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন
নোমান সাবিত: ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত গ্রিন কার্ড নীতির বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গালেগো। সমালোচকদের মতে, নতুন নীতিটি শত শত হাজার বৈধ অভিবাসীর জীবন ব্যাহত করতে পারে এবং বহু পরিবারকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
অ্যারিজোনার এই সিনেটর বুধবার ঘোষণা করেন যে তিনি এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)-এর সাম্প্রতিক নীতিমালা বাতিল করার পথ তৈরি হতে পারে।
গত মে মাসে প্রকাশিত ওই নীতিমালায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে দাখিল করা গ্রিন কার্ড আবেদন শুধুমাত্র 'ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে' অনুমোদন করা হবে। এর ফলে বহু আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হতে পারে।
গালেগো এই নীতিকে 'পরিবারবিরোধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে ট্রাম্পের পরিবারবিরোধী গ্রিন কার্ড নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, আর এখন আমি সেটাই করছি। তবে এটি কেবল প্রথম পদক্ষেপ। আমি লড়াই চালিয়ে যাব যাতে আমেরিকান শিশুরা তাদের বাবা-মাকে হারানোর ঝুঁকিতে না পড়ে।
কংগ্রেসের মাধ্যমে নীতি বাতিলের চেষ্টা
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গালেগো সরকারি জবাবদিহি দপ্তর (জিএও)-এর ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জেনারেলের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি জানতে চেয়েছেন, ইউএসসিআইএস-এর নতুন নির্দেশনাটি আইনি অর্থে 'নিয়ম' হিসেবে গণ্য হয় কি না। যদি তা হয়, তাহলে কংগ্রেস কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা আইন (সিআরএ) -এর আওতায় এটি বাতিল করতে পারবে।
গালেগো লিখেছেন, এই নতুন নির্দেশনা প্রতিবছর সম্ভাব্যভাবে কয়েক লাখ অ-নাগরিক এবং তাদের পরিবারকে প্রভাবিত করবে। এটি একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন, ফলে (সিআরএ অনুযায়ী এটিকে একটি ‘রুল’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ২৭ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসী মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। নতুন নীতি কার্যকর হলে তাদের অনেককে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।
গালেগোর মতে, এসব ব্যক্তির অনেকেই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু দেশ ছেড়ে গেলে পূর্বের অবৈধ অবস্থানের কারণে তাদের ওপর ৩ বছর বা ১০ বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, ইউএসসিআইএস-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকলেও বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের ভিসা বা গ্রিন কার্ড প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত সাধারণত প্রশাসনিক বা বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় পড়ে না।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন নীতিটি অভিবাসন আইনের মূল উদ্দেশ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে এবং অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য স্থায়ী আবাসনের তথাকথিত 'সহজ পথ' বন্ধ করছে।
প্রাথমিকভাবে ইউএসসিআইএস জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের সাধারণত নিজ দেশে ফিরে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে, যদি না তারা 'ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি' প্রমাণ করতে পারেন।
তবে পরে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) কিছুটা অবস্থান নরম করে জানায়, এটি মূলত কর্মকর্তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য জারি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তারা বলেছে, যারা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং অন্য কোনো আইন ভঙ্গ করছেন না, তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
অভিবাসীদের উদ্বেগ
তবুও এই নীতিমালা নিয়ে গ্রিন কার্ড আবেদনকারী, অভিবাসন আইনজীবী, নিয়োগকর্তা এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, আবেদনকারীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করলে দীর্ঘ বিলম্ব, ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এবং পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থানভিত্তিক এবং পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অভিবাসীদের জন্য কয়েক দশক ধরে 'অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস' পদ্ধতিই স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা
নিউ ইয়র্কে কাঁচির আঘাতে হত্যা: অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সঙ্গীত একাডেমি