ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের আইআরএস মামলা পুনরায় চালুর নির্দেশ বিচারকের
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করা ১০ বিলিয়ন ডলারের আইআরএস মামলাটি পুনরায় চালুর নির্দেশ বিচারকের
নোমান সাবিত: ফ্লোরিডার এক ফেডারেল বিচারক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর করা ১০ বিলিয়ন ডলারের আইআরএস মামলাটি পুনরায় খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মামলার সমঝোতা চুক্তি এবং তথাকথিত 'অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন' তহবিল গঠনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন।
ট্রাম্প এবং বিচার বিভাগ (ডিওজে) এর আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন, যার আওতায় মামলাটি স্বেচ্ছায় প্রত্যাহারের বিনিময়ে ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়। এই তহবিল থেকে সরকারি কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করা ব্যক্তিরা অর্থ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এই সমঝোতার মাধ্যমে ট্রাম্প ও ডিওজে কার্যত মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ক্যাথলিন উইলিয়ামস-কে পাশ কাটিয়ে যান।
তবে শুক্রবার বিচারক উইলিয়ামস মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন মঞ্জুর করেন।
তার আদেশে তিনি লিখেছেন, যদিও মামলার নথিতে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা নেই, তবুও প্রকাশ্য নথি ও ঘোষণাগুলো থেকে বোঝা যায় যে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল পক্ষগুলোর মধ্যে একটি কথিত সমঝোতার ভিত্তিতে।
তিনি আরও বলেন, আবেদনকারীদের দাবি অনুযায়ী, ওই সমঝোতা 'আঁতাতের ফল এবং আদালতের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।'
মামলাটি পুনরায় চালুর ফলে এটি কার্যত সেই অবস্থায় ফিরে গেছে, যেখানে ট্রাম্প ও ডিওজে মামলাটি প্রত্যাহার এবং তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথা আদালতকে জানানোর আগে ছিল।
এই তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। এমনকি কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান সদস্যও এর বিরোধিতা করে আইন প্রস্তাব করেন। তাদের দাবি, এমন ব্যয়ের জন্য কংগ্রেস কোনো অনুমোদন দেয়নি।
ডেমোক্র্যাটরাও তহবিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ট্রাম্পের মিত্রদের অর্থ দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যার মধ্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল আক্রমণ-এর ঘটনাকে সমর্থনকারীরাও থাকতে পারেন।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ পরে একটি সংযোজনী নথিতে স্বাক্ষর করেন, যেখানে আইআরএসকে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কর বিবরণী ভবিষ্যতে আর পর্যালোচনা না করার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, অতীতের কর নিরীক্ষার ভিত্তিতে ট্রাম্পের প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার কর বকেয়া থাকতে পারে।
মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন করেন ৩৫ জন সাবেক ফেডারেল বিচারক। তাদের দাবি, মূল মামলাটি আদালতে বৈধ বিরোধপূর্ণ মামলা হিসেবে উপস্থাপনের শর্ত পূরণ করেনি।
বিচারক উইলিয়ামস তার আদেশে লিখেছেন, আবেদনকারীরা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যে, 'মামলাটি শুরু থেকেই আঁতাতমূলক ছিল' এবং আদালতের বিচারিক পর্যালোচনা এড়াতেই এটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমঝোতা চুক্তির একটি তিন অনুচ্ছেদের সংযোজনীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য দাবি উত্থাপন থেকে 'স্থায়ীভাবে বিরত রাখার' চেষ্টা করা হয়েছে।
এখন আদালত ট্রাম্প ও ডিওজেকে নতুন করে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে তাদের ব্যাখ্যা করতে হবে, মামলায় আঁতাতের অভিযোগের কোনো ভিত্তি আছে কি না, পক্ষগুলো প্রকৃতপক্ষে একে অপরের প্রতিপক্ষ ছিল কি না এবং আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে কি না।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
বাংলাদেশের ‘মহিষকাণ্ডে’ ট্রাম্পের গোস্বা: মুসলমানদের জন্য ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দিলেন না
যুক্তরাষ্ট্রে অযোগ্য পিপিপি ঋণ মওকুফের ঘটনায় অর্থ পরিশোধে রাজি ব্যাংক
সঙ্গীত একাডেমি