২০ আগস্ট ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার হাতে ১২০ পরমাণু অস্ত্র, ধারণা সিউলের

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
উত্তর কোরিয়ার হাতে ১২০ পরমাণু অস্ত্র, ধারণা সিউলের

উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে অনুমান করছে দক্ষিণ কোরিয়া।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে অনুমান করছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বেক বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্লামেন্টারি কমিটিতে এ তথ্য জানান। খবর আল আরাবিয়ার। 

এই সংখ্যাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে অনেকটাই বেশি, যিনি সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ৫৭টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও ধারণা অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে। 

তবে পরবর্তীতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই হিসাবটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষের দিকে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে আলোচনাকালে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র’ রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘সংখ্যায় কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।’ 

তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি পুনরায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিনের পরমাণুমুক্তকরণ নীতির অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বেক জানান, সিউল মার্কিন পারমাণবিক ছাতার ওপরই নির্ভর করে যাবে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারি না এবং মার্কিন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র পুনঃমোতায়েন গ্রহণ করাও আমাদের উচিত হবে না।’ 

এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এলো যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরুর চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি যৌথ মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন, যা তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘শত্রুতামূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। 

তবে উত্তর কোরিয়া এই পদক্ষেপের বিষয়ে খুব একটা উৎসাহ দেখায়নি। কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেন, মহড়ার পরিধি কমানো হলেও এটি মূলত উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মকই থেকে গেছে। 

উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে ধারাবাহিক শীর্ষ বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্বিমতের কারণে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছিল, যা ট্রাম্প চলতি বছরের শেষের দিকে পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী। 
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

আমরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই!


আমরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি