৫ জুলাই ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজারে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজারে

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, আর বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।

লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে অসংখ্য আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার— দুই ভূমিকম্পের ১০ দিন পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে। তবে অনেক পরিবার এখনও স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে জীবিত উদ্ধার করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রথম ৭২ ঘণ্টা। যদিও চলতি সপ্তাহেও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করেন। এ সময় উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত কয়েকটি কুকুরকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েনি। আবার অনেকেই সবকিছু হারিয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল শনিবার তাদের কার্যক্রম শেষ করার প্রস্তুতি নেয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার বিভাগের উদ্ধারকারী দল জানায়, সর্বশেষ অনুসন্ধানে আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় তারা অভিযান সমাপ্ত করছে। একইভাবে ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ার দলও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে অনেক ভেনেজুয়েলাবাসী অভিযোগ করেছেন, দুর্যোগের পর সরকারের তৎপরতা ছিল ধীরগতির। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই পরিবারগুলো নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছে।

তবে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, হাজার হাজার সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল।

লা গুয়াইরায় শনিবার ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধসে পড়া ভবন অপসারণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে অনেক পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।

স্বেচ্ছাসেবী ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, ‘আমরা এখনও মরদেহ খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কাজটি খুব কঠিন। আজ আমরা দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছি, যা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

ভূমিকম্পে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন। হাসপাতালগুলোও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: যুগান্তর

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি