৩ এপ্রিল ২০২৬

ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা ট্রাজেডির ২৫ বছর

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা ট্রাজেডির ২৫ বছর
বাংলাপ্রেস ডেস্ক; আজ ২৪ আগস্ট আমাদের ১৩ বছরের ছোট একটি মেয়ে ইয়াসমিনের কথা মনে করিয়ে দিতে চায় যে দরিদ্র পরিবারের জন্ম নেওয়া চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা জানা একটি কিশোরী মেয়ে। সে টাকা জমিয়ে আবার লেখাপড়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে ১৯৯২ সালে দিনাজপুরের একটি গ্রাম থেকে ঢাকায় এক বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে আসে। ১৯৯৫ সালের ২৩ আগস্ট মাকে দেখার জন্য ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরছিল কিশোরী ইয়াসমিন এবং ভুল করে ঠাকুরগাঁওগামী নৈশকোচ হাসনা এন্টারপ্রাইজে উঠে পড়ে। সেই বাসটি ভোরের দিকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুরের সংযোগ মোড় দশমাইল এলাকায় চায়ের স্টলে বাসের সুপারভাইজার নামিয়ে দিয়ে চায়ের দোকানদারকে ইয়াসমিনকে দিনাজপুরগামী একটি বাসে তুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিছুক্ষণ পরই সেখানে পৌঁছে টহল পুলিশের পিকআপ ভ্যান। পুলিশ ভ্যানচালক অমৃত লাল বর্মণ, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মঈনুল এবং আব্দুস সাত্তার চায়ের দোকানে বেঞ্চে বসে থাকা ইয়াসমিনকে দিনাজপুর শহরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জোর করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেয়। এরপর তারা দশমাইলসংলগ্ন সাধনা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইয়াসমিনকে গণধর্ষণের পর নিমর্মভাবে হত্যা করে তার মৃতদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। দিনাজপুর কোতোয়ালি পুলিশ ‘একজন অজ্ঞাতপরিচয়ের লাশ উদ্ধার’ মর্মে ঘটনাটি সাজিয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা করে এবং লাশের তড়িঘড়ি ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বালুবাড়ি শেখ জাহাঙ্গীর গোরস্তানে দাফন করে। পুলিশ ও প্রশাসনের রহস্যময় আচরণ জনমনে কৌতূহল ও বিক্ষোভ শতগুণে জাগিয়ে তোলে। এ সময় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দিনাজপুর জেলা শাখার নেতারা, বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বস্তরের জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াসমিন গণধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। সে সময় দিনাজপুরে গড়ে তোলা হয় নারী নির্যাতনবিরোধী সংগ্রাম কমিটি। ওই সংগ্রাম কমিটি অব্যাহতভাবে মিছিল, মিটিং ও জনমত তৈরির কাজ শুরু করে। ২৭ আগস্ট শহরে দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি বিশাল মিছিল বের করলে মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা ও মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি চালালে সাতজন নিহত হয়। আহত হয় তিন শতাধিক মানুষ। উত্তাল এই আন্দোলন শুধু দিনাজপুরে নয়, সারা দেশে এমনভাবে শুরু হয় যে ইয়াসমিন হত্যার মামলা গ্রহণের জন্য তৎকালীন সরকার বাধ্য হয়েছিল। ইয়াসমিন হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল নারী ও কন্যা নির্যাতন প্রতিরোধে গড়ে তুলেছিলেন ‘নারী ও কন্যা নির্যাতন প্রতিরোধ এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি।’ ওই কমিটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে বিশাল সমাবেশ করে সারা দেশে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ অন্যান্য সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন সম্মিলিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার ফলে সরকার বাধ্য হয়েছিল ইয়াসমিন হত্যার বিচারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মতিন মামলার রায়ে আসামি সহকারী উপপরিদর্শক মঈনুল হোসেন, কনস্টেবল আবদুস সাত্তার এবং পুলিশ পিকআপ চালক অমৃত লাল বর্মণের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ বিধান, ১৯৯৫-এর ৬ (৪) ধারায় ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আলামত নষ্ট, সত্য গোপন ও অসহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এএসআই মঈনুলকে আরো পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন পুলিশ সদস্যের ফাঁসি হয়। এ ঘটনায় আন্দোলনকারী দিনাজপুরবাসীর ওপরে গুলি চালানোর অপরাধে তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা বর্তমানে দিনাজপুর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি