যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের মুখোমুখি কসোভোর সাবেক নেতা হাশিম থাচি
ছবি : রয়টার্স
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৯০-এর দশকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে বিচার চলছে কসোভোর সাবেক প্রধান হাশিম থাচির। কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) সাবেক এই কমান্ডারের বহুল আলোচিত মামলার রায় বুধবার (১৬ আগস্ট) ঘোষণা করা হচ্ছে।
হেগভিত্তিক কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্স এই রায় প্রদান করবেন।
৫৮ বছর বয়সী হাশিম থাচি এবং কেএলএর অন্য তিন সাবেক কমান্ডারের বিরুদ্ধে সার্বীয় সেনা ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নির্যাতন ও প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ এনেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের ৪৫ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন প্রসিউকিউশন। তবে থাচি ও তার সহযোগীরা শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
কসোভোর জাতিগত আলবেনীয়দের কাছে থাচি একজন স্বাধীনতার নায়ক ও শ্রদ্ধেয় নেতা। ফলে এই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালটি স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। রায়কে কেন্দ্র করে কসোভোর প্রধান শহরগুলোর রাস্তায় কেএলএর পতাকা টানানো হয়েছে এবং বড় পর্দায় রায়ের ক্ষণগণনা দেখানো হচ্ছে। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ বিদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যৌথ প্রস্তুতি নিয়েছে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দূতাবাস তাদের নাগরিকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
থাচির আইনজীবীরা প্রসিউকিউশনের এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, কথিত কোনো অপরাধের সঙ্গে থাচিকে সরাসরি যুক্ত করার বা অন্যান্য কমান্ডারদের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল—এমন কোনো প্রমাণ আইনজীবীরা উপস্থাপন করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮-৯৯ সালের যুদ্ধের পর ২০০৮ সালে কসোভো স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধীনে ২০১৫ সালে হেগে এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালটি গঠন করা হয়।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি