যুক্তরাষ্ট্রে ৮৬ বছর বয়সী নারী আইসিইর হাতে আটক
প্রেমকাহিনির করুণ পরিণতি
মারি-তেরেস
নোমান সাবিত: ছয় দশকজুড়ে বিস্তৃত এক প্রেমের গল্পের পরিণতিতে ফ্রান্সের নঁতের ৮৬ বছর বয়সী এক নারী এখন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।
মারি-তেরেস নামের এই নারী ১৯৬০-এর দশকে বিলি নামের এক মার্কিন সেনার সঙ্গে পরিচিত হন। তখন বিলি ন্যাটোর সাঁ-নাজেয়ার ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন এবং মারি-তেরেস সেখানে সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৬৬ সালে বিলি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর দুজনই আলাদাভাবে বিয়ে করে পরিবার গড়েন এবং তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফরাসি গণমাধ্যম ওয়েস্ট-ফ্রান্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে তারা আবার একে অপরকে খুঁজে পান। সে সময় তারা নিজ নিজ জীবনসঙ্গীকে নিয়ে একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎও করেন।
বিধবা হওয়ার পর প্রেম, তারপর বিয়ে
২০২২ সালে দুজনই জীবনসঙ্গী হারানোর পর তাদের মধ্যে আবার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মারি-তেরেসের ছেলে বিলিকে 'আকর্ষণীয় ও স্নেহশীল' মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তারা “কিশোর-কিশোরীর মতো প্রেমে পড়েছিলেন।” গত বছর তারা বিয়ে করেন। এরপর মারি-তেরেস নঁত ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় চলে আসেন এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (গ্রিন কার্ড) পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
স্বামীর মৃত্যু, তারপর গ্রেপ্তার
গ্রিন কার্ড পাওয়ার আগেই গত জানুয়ারিতে বিলির হঠাৎ মৃত্যু হয়, ফলে মারি-তেরেসের অভিবাসন অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর কিছুদিন পর স্বামীর সম্পত্তি নিয়ে বিলির ছেলের সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ছেলে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং এমনকি তার পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এরপর মারি-তেরেস একজন আইনজীবী নিয়োগ করেন। আদালতের নির্ধারিত শুনানির আগের দিনই তার বাড়িতে হানা দেয় মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। প্রতিবেশীরা বিষয়টি তার সন্তানদের জানান।
তার ছেলে বলেন, 'তাকে এমনভাবে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেন তিনি কোনো বিপজ্জনক অপরাধী।' তবে বিলির ছেলের অভিযোগের কারণে এই গ্রেপ্তার হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
লুইজিয়ানায় আটক, স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
বর্তমানে মারি-তেরেস লুইজিয়ানার একটি আইসিই আটক কেন্দ্রে রয়েছেন। তিনি হৃদরোগ ও পিঠের সমস্যায় ভুগছেন। তার ছেলে জানান, তিনি 'মানসিকভাবে শক্ত' এবং এখনো পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করছেন, তবে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রথম লক্ষ্য তাকে ওই কেন্দ্র থেকে বের করে ফ্রান্সে ফিরিয়ে নেওয়া। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় এমন পরিবেশে তিনি এক মাসও টিকে থাকতে পারবেন না।
এদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবগত হয়েছে। তার ছেলে জানিয়েছেন, ফরাসি দূতাবাস থেকে ইতোমধ্যে তাকে কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
হরমুজ প্রণালি খোলার উদ্যোগ, জাতিসংঘের প্রস্তাব কতটা কার্যকর?
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি