ইমা এলিস: লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসা সেবা প্রদান করায় এক ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাতে ওই ভুয়া ডাক্তারকে আটক করা হয়। এসময় তার এক রোগী বেআইনি অস্ত্রোপচারের পর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেলিপে হোয়োস-ফোরোন্ডা (৩৮) নামের ওই ব্যক্তি কুইন্সের ২০-৫৯ ৩৫তম স্ট্রিটে তার পরিচালিত একটি অবৈধ চিকিৎসাকেন্দ্রে ৩১ বছর বয়সী এক নারীর শরীরে লিডোকেইন ইনজেকশন প্রয়োগ করেন, যার ফলে রোগীর মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হয়।
পরে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা (ইএমএস) ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোগীকে মাউন্ট সিনাই কুইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে তাকে সংকটজনক অবস্থায় রাখা হয়। চিকিৎসকরা জানান, রোগী বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন এবং মস্তিষ্কে কোনো কার্যকারিতা নেই, যা লিডোকেইন বিষক্রিয়া থেকেই হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
এই ঘটনার পরপরই হোয়োস-ফোরোন্ডা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ তার গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ট্র্যাক করে জানতে পারে, তিনি ভ্যান উইক এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে জেএফকে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছেন।
পরবর্তীতে পোর্ট অথরিটি পুলিশ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা চেক পার হওয়ার পর তাকে আটক করে। তিনি কলম্বিয়াগামী একটি ফ্লাইটে উঠার চেষ্টা করছিলেন। পরে ১১৪তম প্রিসিঙ্কটের গোয়েন্দারা তাকে গ্রেফতার করে।
রবিবার কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির করে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির আক্রমণ, অস্ত্র ব্যবহার সম্পর্কিত অপরাধ, এবং পেশাদার লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়। বিচারক মাইকেল গ্যাফি হোয়োস-ফোরোন্ডাকে জামিন ছাড়াই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
এদিকে, নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বুধবার হোয়োস-ফোরোন্ডার একটি ছবি প্রকাশ করে এবং জানায়, যদি কেউ এই ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে যেন তারা পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেন।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
বিপি।এসএম