Home Uncategorized সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে জমি বিক্রির অভিযোগ

সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে জমি বিক্রির অভিযোগ

by বাংলাপ্রেস ডেস্ক
A+A-
Reset

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের চকমামরোজপুর গ্রামে জমি দলিল করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এখন ক্রেতা জহির রায়হানকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর ওই নারী শাশুড়িকে সাথে করে না নিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্বজনরা। আর তা হলে রাস্তায় নামতে হবে শাশুড়ী দৌলতিয়া রবিদাসকে।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের চকমামরোজপুর গ্রামের হিরালাল রবিদাস পৈত্রিক সূত্রে পৌনে তিন শতাংশ জমি পান ও সোয়া আট শতাংশ জমি কেনেন। তিনি আনুমানিক ১৯৯৫ সালের দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। হিরালালের স্ত্রী দৌলতিয়া রবিদাস এখনো বেঁচে আছেন। হিরালালের এক ছেলে রূপ কুমার। রূপ কুমার সীতা রানী নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে পূজা রানী (২০) ও প্রান্তি রানী (১৬) নামে দুই মেয়ে রয়েছে।

এ অবস্থায় আনুমানিক ২০০৮ সালের দিকে অসুস্থ্যতাজনিত কারণে রূপ কুমার মারা যান। পরে আনুমানিক ২০০৯ সালের দিকে সীতা রানী অন্যত্র বিয়ে করেন। রূপ কুমারের দুই মেয়ের মধ্যে পূজা রানীর বিয়ে হয়েছে ও তার ঘরে প্রায় এক বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। এদিকে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হিরালালের স্ত্রী দৌলতিয়া রবিদাসকে স্বাক্ষী করে হিরালালের ১১ শতাংশ জমি একই গ্রামের জহির রায়হান নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন সীতা রানী।

কিন্তু হিন্দু উইমেন্স রাইটস টু প্রোপার্টি অ্যাক্ট- ১৯৩৭ অনুযায়ী, স্বামীর সম্পত্তিতে বিধবা নারী অধিকারী হবেন। এ নিয়ে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে বলেছেন, আইনে কোনো সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির কথা নেই। ‘সম্পত্তি’ শব্দের অর্থ সব সম্পত্তি যেখানে স্থাবর বা অস্থাবর, বসতভিটা, কৃষিভূমি, নগদ টাকা বা অন্য কোনো ধরনের সম্পত্তি। কৃষিজমি ও বসতভিটার মধ্যে পার্থক্য করার সুযোগ নেই এবং এ ধরনের সম্পত্তি বিধবার বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। এদিন হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়- হিন্দু বিধবা নারীর কৃষি-অকৃষি উভয় প্রকার সম্পত্তিতে অধিকার থাকবে।

এর আগে,২০২০ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিলেন, হিন্দু বিধবারা স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে, তবে প্রাপ্ত সম্পত্তি কোনো প্রকার
বিক্রি, হস্তান্তরযোগ্য নয়। শুধু ভোগদখলকৃত বলে গণ্য হবে। অপরদিকে ১৯৩৭ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, মেয়ে পিতার সম্পত্তি পাবেন না। সে হিসেবে রূপ কুমারের মেয়েরা এই ১১ শতাংশ জমির উত্তরাধিকার নন। হিরালালের ভাতিজা বিজয় চন্দ্র বলেন, একে তো জমি বিক্রি করতে পারেন না উপরন্তু সীতা রানী একাই জমি দলিল করে দিয়েছেন। সীতা রানী এখন অন্যত্র চলে যাবেন। কিন্তু মানসিকভাবে অসুস্থ্য দৌলতিয়া রবিদাসকে সাথে করে নিয়ে যাবেন না। তার ভরণপোষণও দেবেন না। ফলে তার ঠিকানা হবে রাস্তা। কিন্তু ওই ১১ শতাংশ জমির মধ্যে দৌলতিয়া রবিদাসও একজন অংশীদার। তাকে ঠকানো হয়েছে।

এখন এই জমিতে যেতেও দিচ্ছেন না জহির রায়হান ও সীতা রানী। তারা এই জমি দখলের পায়তারা করছেন। এ নিয়ে গত ৯ ডিসেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন বিজয় চন্দ্র। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন
ভুক্তভোগীরা।

বিপি/কেজে

You may also like

Leave a Comment

কানেকটিকাট, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বৃহত্তম বাংলা অনলাইন সংবাদপত্র

ফোন: +১-৮৬০-৯৭০-৭৫৭৫   ইমেইল: [email protected]
স্বত্ব © ২০১৫-২০২৩ বাংলা প্রেস | সম্পাদক ও প্রকাশক: ছাবেদ সাথী