৪৬ বছর প্রথমবার সরাসরি আলোচনায় বসল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা শুরু
নোমান সাবিত: ছয় সপ্তাহের সংঘাতের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৪৬ বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
শুক্রবার উভয় দেশের কর্মকর্তারা পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছান, যেখানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘোষিত নাজুক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে চুক্তিতে পৌঁছাতে বা কঠোর হামলার মুখোমুখি হওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. অ্যান্ড্রু বেকার এবং এশিয়া বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মাইকেল ভ্যান্সসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন।
তবে যুদ্ধবিরতি ইতোমধ্যেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, কারণ লেবাননে হামলা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ হওয়া নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করছে।
শুক্রবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আলোচনাকে ঘিরে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রতিনিধিদল 'স্পষ্ট নির্দেশনা' পেয়েছে।
তিনি বলেন, যদি ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনায় আগ্রহী হয়, তাহলে আমরাও ইতিবাচক সাড়া দিতে প্রস্তুত। কিন্তু তারা যদি প্রতারণার চেষ্টা করে, তাহলে আমাদের দল সে ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেবে।
অন্যদিকে, কালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে হামলা বন্ধ এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না যা তাদের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাবের অংশ।
শনিবার এক ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আলোচনার ফলাফল কী হবে তা নিয়ে তার 'কোনো ধারণা নেই।'
তিনি বলেন,'খুব শিগগিরই জানাতে পারব। বেশি সময় লাগবে না,ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনা করছে কিনা জানতে চাইলে এভাবেই জবাব দেন তিনি।
এই বৈঠকটি ঐতিহাসিক, কারণ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যার মাধ্যমে ইরানে পাহলভি শাসনের পতন ঘটে এই প্রথম দুই দেশের কর্মকর্তারা সরাসরি মুখোমুখি আলোচনায় বসেছেন।
এর আগে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যে আলোচনা হয়েছে, তা বারবার ভেস্তে গেছে, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে কেন্দ্র করে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার থেকে বাদ পড়ল ৪ লাখ অবৈধ অভিবাসী
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি