বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত, গতানুগতিক কর্মসূচিতে আটকা মশক নিধন
৬৩ ওয়ার্ডে এডিসের উচ্চ ঝুঁকি, ডেঙ্গু বিস্ফোরণের আশঙ্কা, প্রস্তুতিতে পিছিয়ে সিটি করপোরেশন
বাংলাপ্রেস ডেস্ক : দেশে বর্ষাকাল শুরু হতে না হতেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্ষা মৌসুম এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সবচেয়ে অনুকূল সময় হওয়ায় চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এমন পরিস্থিতিতেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম এখনো অনেকটাই গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় চার হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু শেষ ১০ দিনেই প্রায় ৭০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগাম সতর্কতা জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত এক দশকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে এক হাজার ১২ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করলেও নগরবাসী এখনো মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। ড্রোন ব্যবহার, জলাশয়ে মাছ ও ব্যাঙ অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেগুলোর উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাম্প্রতিক জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি ওয়ার্ডেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার যৌথ উদ্যোগে আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত জরিপে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা শনাক্ত হয়েছে।
জরিপে দেখা যায়, বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
প্রজননক্ষেত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জমে থাকা পানিতে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ, বালতিতে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এসব তথ্য নগরবাসীর অসচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার ঘাটতির দিকটিও সামনে এনেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বা সচেতনতামূলক প্রচারণা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মনিটরিং, সমন্বিত পরিকল্পনা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারলে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তারা মনে করেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ না নিলে বর্ষার পুরো মৌসুমজুড়ে জনস্বাস্থ্য বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধের দাবিতে চিলাহাটিতে ১১ দলের প্রতিবাদ সমাবেশ
কলেজ শিক্ষক মিলনায়তনে অধ্যক্ষ-সহাকরী অধ্যাপকের মারামারি, ভিডিও ভাইরাল
সঙ্গীত একাডেমি