৩ এপ্রিল ২০২৬

আবারও আটক হচ্ছেন ট্রাম্পের নীতিতে বিচ্ছিন্ন অভিবাসী পরিবারগুলো

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
আবারও আটক হচ্ছেন ট্রাম্পের নীতিতে বিচ্ছিন্ন অভিবাসী পরিবারগুলো

বিচ্ছিন্ন হওয়া কিছু অভিবাসীকে আবারও আটক করা হয়েছে

কৌশলী ইমা: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৮ সালের নীতিতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কিছু অভিবাসীকে আবারও আটক করা হয়েছে বলে আদালতে দাখিল করা নথিতে জানিয়েছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংস্থাটি বলছে, এই আটক ২০২৩ সালের একটি ফেডারেল আদালতের সমঝোতা চুক্তির লঙ্ঘন।
এই সপ্তাহে এসিএলইউ এক বিচারকের কাছে আবেদন জানায়, নতুন করে আটক হওয়া সাতজনকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দেওয়ার জন্য। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে কঠোর অভিযানের সময় এদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এসিএলইউ এর আইনজীবী লি গেলারেন্ট জানান, আটক ব্যক্তিরা এক সপ্তাহ থেকে শুরু করে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন যাদের বেশিরভাগই তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে হেফাজতে আছেন। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, তাদের আটক রাখার পক্ষে সরকার দুর্বল বা কোনো যুক্তিই দেখাতে পারেনি।
গেলারেন্ট বলেন, 'আগেই ট্রমার শিকার হওয়া এসব পরিবারকে আবার আটক করা শুধু অবৈধই নয়, বরং অতীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেভাবে তাদের প্রতি অন্যায় আচরণ করেছে, তার প্রতি এক ধরনের নির্মম অবহেলা।'
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, যা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কে তদারকি করে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন বিচার বিভাগ ও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
২০১৮ সালের জুনে ডানা সাব্রাও নামের এক মার্কিন জেলা বিচারক পরিবার বিচ্ছিন্নকরণ নীতির অবসান ঘটানোর নির্দেশ দেন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ট্রাম্প নিজেও কয়েক দিন পর এই নীতি স্থগিত করেন। এরপর থেকে সাবরো হাজার হাজার শিশুকে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে পুনর্মিলনে তদারকি করে আসছেন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য, যোগ হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার নতুন চাকরি
২০২৩ সালের ডিসেম্বরের সমঝোতা অনুযায়ী, সরকার আট বছরের জন্য 'জিরো টলারেন্স' পরিবার বিচ্ছিন্নকরণ নীতি পুনরায় চালু করতে পারবে না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, এসিএলইউ অভিযোগ করে যে আইসিই কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই কিছু অভিবাসী পরিবারকে বহিষ্কার করেছে। বিচারক সাবরো সেই বহিষ্কারকে অবৈধ ঘোষণা করে পরিবারগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন এবং তাদের ফেরানোর খরচ সরকারকে বহন করতে বলেন।
তার আদেশে সাবরো উল্লেখ করেন, 'এই পরিবারগুলোকে অপসারণ করার ফলে সমঝোতা চুক্তির সুবিধাগুলো কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে।'
তিনি আরও বলেন, এই অপসারণের প্রক্রিয়ায় 'মিথ্যা, প্রতারণা এবং জোরজবরদস্তি' ব্যবহার করা হয়েছে।
এসিএলইউ জানায়, তারা ২৫টি আটক ঘটনার পর্যালোচনা করে দেখেছে, এর মধ্যে অন্তত সাতটি ক্ষেত্রে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে। এর মধ্যে একজন বাবা রয়েছেন, যিনি ২০১৭ সালে তাঁর ৫ বছর বয়সী মেয়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন এবং ফ্লোরিডায় একটি ট্রাফিক স্টপের পর পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে আইসিই হেফাজতে রয়েছেন।
আরেকটি ক্ষেত্রে, ২০১৮ সালে ১৫ বছর বয়সী মেয়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এক মা নিয়মিত চেক-ইনের জন্য আইসিই অফিসে গেলে তাকে সেখানেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি প্রায় তিন মাস ধরে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন।
২০২৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী, শুধুমাত্র পূর্বে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বহিষ্কারের অনুমোদন পাওয়ার ভিত্তিতে কাউকে বহিষ্কার করা যাবে না। এমনকি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো ছোটখাটো অপরাধও বহিষ্কারের কারণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
এসিএলইউ অভিযোগ করেছে, সরকার এখনো ওই সাতজনকে মুক্তি দিতে অস্বীকার করছে এবং তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার পরও আইসিই কোনো সাড়া দেয়নি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দিককার সময়ে আইসিই-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ছিলেন টম হোমান, যিনি পরিবার বিচ্ছিন্নকরণ নীতির অন্যতম স্থপতি ছিলেন। পরবর্তীতে ট্রাম্প তাকে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে 'বর্ডার জার' হিসেবে নিয়োগ দেন।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি