১৫ আগস্ট ২০২৬

আমির হামজার গাড়িতে হামলা, জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষে আহত ১৫

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
আমির হামজার গাড়িতে হামলা, জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষে আহত ১৫

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে হামলার জের ধরে জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয় আমির হামজার গাড়ি। পাশাপাশি হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের অফিস এবং ওই সংগঠনের জেলা কার্যালয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশকে নির্বিকার বসে থাকতে দেখা যায়।

‘গণঅধিকার পরিষদ দুজনের দল’ সম্প্রতি আমির হামজার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন দলটির কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক। বিকাল ৫টা থেকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এই সমাবেশস্থলের অদূরে আমির হামজার বাসভবন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আমির হামজার গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালান। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ছয় রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এই সংঘর্ষ ঘিরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আমির হামজার সমর্থকদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই এমপির গাড়িতে হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। এমপির সমর্থকরাই সেখানে গিয়ে উসকানিমূলক আচরণ করে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। ঘটনার পর ছয় রাস্তার মোড় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আমির হামজা বলেন, গণঅধিকারের খালেক ও তৌকির আমার গাড়িতে হামলা করেন। তাদের লোকজন হকিস্টিক, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালান। ইটের আঘাতে গাড়ি ভেঙে আমার চাচার পা কেটে গেছে। আমিও কপালে আঘাত পেয়েছি। আমার দলের সাতজন আহত হয়েছেন।

গণঅধিকারের কুষ্টিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে তারা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমাদের সেক্রেটারির অফিস ভাঙচুর করেছে। দলের অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কোনো ভিত্তি নাই, তাদের অল্প কয়েকজন কর্মী রয়েছে, তারা বিভিন্ন দলের লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের উপস্থিতিতে এমপির গাড়িতে হামলা চালায়, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে। সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি