আর যেন গুম সংস্কৃতি ফিরে না আসে : বাংলাদেশ ন্যাপ
।। এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।।
‘গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ'র শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এই বাংলাদেশে আর যেন গুম সংস্কৃতি ফিরে না আসে এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ভুমিকা রাখতে হবে।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) ‘৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস' উপলক্ষে গনমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, ‘যখন সারা বিশ্বের যারা গুমের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস তখন বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই ফিরে আসলেও তাদের অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নতুন করে মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছু গুমের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগোর আঙ্গল উঠলেও এসব বাহিনী এবং সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করে দেয়া হচ্ছে বার বার। বরং সরকারের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যাক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্ত, সেই চেষ্টা কবে শেষ হবে কেউ জানেনা।’
নেতৃদ্বয় বলেন, ‘গুমের প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রে সুদূরপ্রসারী। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরাগভাজন তথা নিখোঁজ হওয়ার ভয়ে মানুষ মুক্তবুদ্ধির চর্চা, মতপ্রকাশ কিংবা সরকারের বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকান্ডের যে কোনও ধরনের সমালোচনা করা থেকে নিজেদের বিরত রাখে। যা প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সুশাসনের বিকাশে অন্তরায়।’
তারা বলেন, ‘গুমের অবসান ঘটাতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। গুমের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। সেইসঙ্গে অতীতের ঘটনাগুলোর সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ আর গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পুরোনো চর্চায় ফিরে যাবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশার বিপরীতে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগের ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের ২৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যা অত্যান্ত দুঃখজনক।’
তারা বলেন, ‘রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ সংস্কার ও গুমের মতো মৌলিক বিষয়ে বাংলাদেশকে পেছনের দিকে তাকালে হবে না। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ’
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান নেতৃদ্বয়।’
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ২৩ আগস্ট : উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথিকৃত শফিকুল গানি স্বপন
সঙ্গীত একাডেমি