আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতল স্পেন
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে দলের প্রথম গোল করার পর উল্লাস করছেন স্পেনের ফেরান তোরেস
ছাবেদ সাথী: তিনটি দেশজুড়ে আয়োজিত এক অভূতপূর্ব বিশ্বকাপের পর্দা নামল রোমাঞ্চকর এক ফাইনালে। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। এর মাধ্যমে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্প্যানিশরা।
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্যভাবে শেষ হয়। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস জোরালো শটে জাল কাঁপিয়ে স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। গোলটি স্পেনজুড়ে উল্লাসের ঢেউ তোলে এবং আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্পেনের খেলোয়াড়রা মাঠে আনন্দে ছুটে বেড়ান। লাল জার্সিধারী নতুন প্রজন্মের এই দলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা শেষ অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় থাকা লিওনেল মেসির স্বপ্ন থামিয়ে দেয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেন দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে মহাদেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দীর্ঘ ভ্রমণ, কঠিন প্রতিপক্ষ এবং চাপ সামলে শিরোপা জয় নিশ্চিত করে।
৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপকে ঘিরে শুরু থেকেই ছিল নানা প্রশ্ন—বেশি দল, বেশি ম্যাচ, দীর্ঘ ভ্রমণ, তীব্র গরম, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক। কিন্তু সব সংশয় কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো সফলভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করে। ফাইনাল সপ্তাহে মোট দর্শকসংখ্যা ৬৭ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের সম্মিলিত উপস্থিতিকেও অতিক্রম করে এবং ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের আগের একক আসরের রেকর্ডও ভেঙে দেয়।
লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার জন্য এই পরাজয় একটি ঐতিহাসিক সম্ভাবনার সমাপ্তি ঘটায়। কাতার বিশ্বকাপের চার বছর পর টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। কিন্তু পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা আক্রমণে ছিল নিষ্প্রভ। নির্ধারিত সময়ে তারা স্পেনের গোলে কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য শট নিতে পারেনি এবং ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে প্রতিপক্ষকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে ব্যর্থ হয়।

অন্যদিকে স্পেন একের পর এক কর্নার, ক্রস, হেড ও আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণ কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিরোধ ভেঙে যায়।
অতিরিক্ত সময় শুরুর তিন মিনিট পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখলে শেষ পর্যন্ত ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্পেন চাপ আরও বাড়ায়। নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হলেও দ্বিতীয় অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ফেরান তোরেস জয়সূচক গোল করে স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানান।
ফাইনাল উপলক্ষে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে আশপাশের সড়ক ভরে যায় স্পেন ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের লাল ও আকাশি-সাদা জার্সিতে। টিকিট না পাওয়া হাজারো ফুটবলপ্রেমীও সেন্ট্রাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে ম্যাচ উপভোগ করেন।
ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ম্যাচের আগে সংগীত পরিবেশন করেন পোস্ট ম্যালোন এবং বিরতিতে মাদোনা, শাকিরা ও জাস্টিন বিবারের পরিবেশনা যুক্ত হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালকে সুপার বোলের আবহ এনে দেয়।
সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফুটবলই। বিশাল পরিসর, জটিল আয়োজন এবং বাণিজ্যিক জৌলুসের মধ্যেও ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করেছে—এই খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি এখনও মাঠের লড়াই এবং সেই অনন্য আবেগ।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
‘চুক্তিভঙ্গ’ করেছে মোদি সরকার, আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ‘তেলাপোকা পার্টির’
সঙ্গীত একাডেমি, কানেকটিকাট
সঙ্গীত একাডেমি