বাংলাদেশ থেকে বিদেশি কোম্পানির ৬১৫ কোটি ডলারের বেশি অর্থপ্রবাহ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: এক প্রতিবেদনে বণিক বার্তা জানায়, টেলিযোগাযোগ, তেল-গ্যাস, খনিজ ও বিদ্যুৎ, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, ব্যাংক, বীমা ও লিজিংসহ বিভিন্ন খাতের কম্পানি এ অর্থ প্রত্যাবাসন করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশি কম্পানিগুলো ১৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ডলার প্রত্যাবাসন করে। পরের অর্থবছরে ডলার সংকটের মধ্যে তা প্রায় ৫২ শতাংশ কমে ৬৬ কোটি ৫ লাখ ডলারে নেমে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ১১১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার প্রত্যাবাসন হয়। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ১৪৬ কোটি ৩ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালের মাঝামাঝি দেশে ডলার সংকট শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালে তা তীব্র হয়। এ কারণে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনেক বিদেশি কম্পানি মুনাফা প্রত্যাবাসন করতে পারেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছিল। ২০২৫ সালের শুরুতে বিধি-নিষেধ শিথিল হলে আগের কয়েক বছরের আটকে থাকা মুনাফার একটি অংশ প্রত্যাবাসন করা হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্থ প্রত্যাবাসন বেড়ে যায়।
গত পাঁচ বছরে অর্থ প্রত্যাবাসনকারী শীর্ষ কম্পানিগুলোর মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতের টেলিনর মোবাইল কমিউনিকেশনস, আজিয়াটা ইনভেস্টমেন্টস ও ভারতি ইন্টারন্যাশনাল রয়েছে। টেলিনর মোবাইল কমিউনিকেশনস এএস গ্রামীণফোনের ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক।
গ্রামীণফোনের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরে টেলিনরকে ২২ হাজার ২১৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে।
তেল, গ্যাস, খনিজ ও বিদ্যুৎ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন বাংলাদেশ অর্থ প্রত্যাবাসনকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। উৎপাদন বণ্টন চুক্তির (পিএসসি) আওতায় কম্পানিটি বিবিয়ানা, জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং ভিক্টোরিয়া হোল্ডিংসও এ খাতে শীর্ষ প্রত্যাবাসনকারীদের তালিকায় রয়েছে।
তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর-প্যাক ইন্টারন্যাশনাল, শ্রীলংকার ইউনিচেলা এবং নেদারল্যান্ডসের পাক্সার বি.ভি. উল্লেখযোগ্য অর্থ প্রত্যাবাসন করেছে। ব্যাংক, লিজিং ও বীমা খাতে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কম্পানি (মেটলাইফ) ও এএসপি ফিন অ্যাসেট অ্যান্ড লায়াবিলিটি ম্যানেজমেন্ট।
অন্যান্য খাতের শীর্ষ কম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিলিভার ইউকেসিআর, দ্য র্যালে ইনভেস্টমেন্ট কম্পানি এবং ভারতের ম্যারিকো লিমিটেড। ম্যারিকো বাংলাদেশ গত পাঁচ বছরে মূল কম্পানির কাছে লভ্যাংশ হিসেবে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি প্রত্যাবাসন করেছে।
বিদেশি কম্পানির মুনাফা প্রত্যাবাসনের বিপরীতে বাংলাদেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহও কমেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইকুইটি মূলধন হিসেবে দেশে এসেছে ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কম।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলধনের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আসে। রপ্তানিতে নতুন পণ্য ও বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি এবং এসএমই খাতে সাপ্লাই চেইন লিংকেজ তৈরিতেও তাদের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সাপ্লাই চেইন তৈরিতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বহুজাতিক কম্পানিগুলোর অবদান জিডিপির ৫ শতাংশেরও কম। রপ্তানিতেও তাদের অবদান ৫ শতাংশে পৌঁছায়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিদেশি কম্পানিগুলোর মুনাফা প্রত্যাবাসন থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে মুনাফা করার সুযোগ রয়েছে। বিদেশি কম্পানিগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের উদ্যোক্তাদেরও বিনিয়োগে এগিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি