১২ জুলাই ২০২৬

বাথরুম ব্যবহারে যে ভুলে কমতে পারে স্মরণশক্তি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
বাথরুম ব্যবহারে যে ভুলে কমতে পারে স্মরণশক্তি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  পৃথিবীতে মাঝেমধ্যে এমন কিছু অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে থাকে, যা কল্পবিজ্ঞানের গল্পকেও হার মানিয়ে দেয়। ২০১৯ সালের ঘটনা। হংকং থেকে সামনে আসা এমনই এক বিরল ঘটনা পুরো চিকিৎসা জগতকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এক সাধারণ নারী প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে টয়লেটে গিয়েছিলেন। তিনি যখন বাথরুমের দরজা খুলে বাইরে বেরোলেন, তখন তার জীবনের শেষ ১০ বছরের সব স্মৃতি মাথা থেকে বেমালুম হারিয়ে গেছে। তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্বামী ও সন্তানদের দেখেও চিনতে পারলেন না তিনি। এমনকি নিজের চেনা ঘরবাড়ি দেখেও আঁতকে উঠে বারবার প্রশ্ন করতে লাগলেন—আমি কোথায়? এই অচেনা মানুষগুলোই বা কারা?

কোনো চোট-আঘাত নেই, কোনো বড় অসুখ নেই অথচ চোখের পলকে একটা মানুষ কীভাবে ১০ বছর আগের অতীতে হারিয়ে গেলেন, তা নিয়ে আজও চর্চা চলে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে। 

সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বাকি দিনগুলোর মতোই স্বাভাবিক কাজকর্ম করছিলেন সেই নারী। আচমকা পেটে সামান্য অস্বস্তি অনুভব করায় তিনি টয়লেটে গেলেন। কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পেট পরিষ্কার না হওয়ার কারণে তিনি সেখানে মলত্যাগের জন্য বেশ জোরে চাপ দিয়েছিলেন। আর এই অতিরিক্ত জোর দেওয়াই তার জীবনে ডেকে আনল এক অদ্ভুত অন্ধকার। বাথরুম থেকে বের হওয়ার পরেই তার আচরণ অদ্ভুত ঠেকছিল পরিবারের অন্যদের কাছে। 

১০ বছর আগের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া ওই নারী নিজের জন্ম দেওয়া সন্তানদের দেখেও অবাক হয়ে যান। বেগতিক দেখে পরিবার তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তার মাথার এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ সব নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়— রিপোর্টে কোনো ব্রেন টিউমার, স্ট্রোক কিংবা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

শেষে চিকিৎসকরা এক হাড়হিম করা সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তারা বলেন, বাথরুমে বসে পায়ুদ্বারে অতিরিক্ত মাত্রায় জোর দেওয়ার ফলে তার মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ সাময়িকভাবে থমকে গিয়েছিল। আর তাতেই ঘটে গেছে এই চরম বিপর্যয়।

চিকিৎসকরা এই বিরল ও অদ্ভুত রোগের নাম দিয়েছেন ‘ট্রান্সিয়েন্ট গ্লোবাল অ্যামনেশিয়া’। এটি এমন এক সাময়িক কিন্তু তীব্র স্মৃতিভ্রংশের অবস্থা, যা হুট করে মানুষকে তার সাম্প্রতিক অতীত ভুলিয়ে দেয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শৈশব বা বহু পুরোনো স্মৃতি অক্ষত থাকে, কিন্তু গত কয়েক বছরে তার জীবনে যা যা ঘটেছে, তা মাথা থেকে মুছে গেছে।

সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো— এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নতুন কোনো স্মৃতি তৈরি করতে পারে না। তাই তিনি কয়েক মিনিট অন্তর অন্তর একই প্রশ্ন বারবার করতে থাকেন। কারণ আগের মিনিটে তিনি কী উত্তর পেয়েছেন, তা তার মস্তিষ্ক ধরে রাখতে পারে না। এ সমস্যা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়, তবে হংকংয়ের সেই নারীর ক্ষেত্রে এর রেশ বেশ কিছুটা দীর্ঘ ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টয়লেটে মাত্রাতিরিক্ত জোর দেওয়াই নয়, আচমকা ভারি ওজন তোলা, তীব্র মানসিক চাপ কিংবা হঠাৎ রক্তচাপের ওঠানামা এ বিপজ্জনক রোগটিকে ট্রিগার করতে পারে। আর ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সির মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা গেলেও ব্যতিক্রমীভাবে তরুণদের মধ্যেও এটি ঘটতে পারে। তবে স্বস্তির খবর এটাই— এ রোগ স্থায়ী নয়; কিছু সময় পর রোগীরা আবার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে তাদের স্মৃতি ফিরে পান।

বাথরুমের মতো অতি সাধারণ এক জায়গায় সামান্য অসাবধানতা যে মানুষের জীবনের আস্ত একটা দশক মুছে দিতে পারে, এ ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ!

হংকংয়ের এ ঘটনাটি যখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে, তখন নেটিজেনদের একাংশ আতঙ্কে শিউরে ওঠেন। নেটিজেনদের একাংশ মনে করেন, এখন দেখছি টয়লেটে যাওয়াও বিপজ্জনক! আবার অনেকে রসিকতা করে বলছেন, কাল থেকে বাথরুমে আর কোনো হিরোগিরি নয়। এবার থেকে বড় বাথরুম করার সময়ে একদম হালকা চাপ দেব! সূত্র: যুগান্তর

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি