১২ জুলাই ২০২৬

বৃষ্টির দিনে কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে, জানুন রহস্য

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৩ এএম
বৃষ্টির দিনে কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে, জানুন রহস্য

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি। নামে সাধারণ, স্বাদেও অসাধারণ। কারও কাছে বৃষ্টি মানে ইলিশ-খিচুড়ি খাওয়া, আবার কারও কাছে বৃষ্টির দিন মানেই আয়েশি ঘুমের আয়োজন। বৃষ্টি হোক কিংবা না হোক— খিচুড়ির জুড়ি মেলা ভার। আর বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি যেন অন্যরকম এক অনুভূতি। 

বৃষ্টির দিন হলেই কারও আবার মন খারাপ হয়ে যায়। যদি খিচুড়ির কোনো আয়োজন না থাকে। তাই বৃষ্টি হলে খিচুড়ি খাওয়া যেন কেউ ভোলে না। তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি মন ভালো করে দেয়, তখন মন চায় খিচুড়ি খেতে। 

বাইরে মেঘলা আকাশ, মুষলধারে বজ্রবৃষ্টি হচ্ছে— এমন দিনে খিচুড়ির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই বৃষ্টিমন বলে ওঠে— খিচুড়ি খিচুড়ি। কথা হচ্ছে— কেন এমনটা লাগে? বৃষ্টি হলেই কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে?

বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খাওয়ার আনচানে মন করার কারণ কিংবা উপকারিতা হলো এর খাদ্যগুণ প্রসঙ্গে। আসলে চাল-ডাল একসঙ্গে থাকায় এর মধ্যে ফাইবারের পরিমাণ থাকে যথেষ্টই। খিচুড়ি গরম গরম খেতে ভালো লাগে। ঠাণ্ডা খিচুড়ি কেমন যেন, স্বাদহীন! তাই গরম খিচুড়ি বেশ কিছু রোগ সারিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে গলা ধরার সমস্যা বা ওই জাতীয় কিছু। 

আর বৃষ্টির সময় জলবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। গরম খিচুড়ি সেসব রোগের মোকাবিলা করতে পারে বলেও ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সে কারণে খিচুড়িকে পথ্য হিসেবেই দেখা হতো এক সময়। 

অনেকেই বৃষ্টি হলে শৈশবের স্মৃতিচারণ মনে করেন। মায়ের সেই রান্না করা খিচুড়ি ভেসে ওঠে মনের মধ্যে। তাই বৃষ্টি হলেই ইচ্ছা করে খিচুড়ি খেতে। আর খিচুড়ি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। হজমে অনেকটা সময় নেওয়ায় উপযুক্ত খাবার মনে হয়।

প্রকৃতপক্ষে বৃষ্টি হলেই মনটা খিচুড়ির জন্য আকুপাকু করতে থাকে। মুখরোচক এ খাবারটিরও আবার রয়েছে নানা ধরন। কেউবা ভালোবাসে পোলাওয়ের চাল আর মুগ ডালের ভুনা খিচুড়ি খেতে পছন্দ করেন। আবার কারও মন আনচান করে ঝোলসমেত পাতলা ল্যাটকা খিচুড়ি। অনেকে আবার সবজি কিংবা মাংস মিশিয়েও খেতে পছন্দ করেন।

বৃষ্টির সঙ্গে খিচুড়ির সম্পর্কই বা কী

খিচুড়ির ইতিহাস ঘেঁটে যা পাওয়া যায়, তাতে খিচুড়ি হলো মূলত বাউলদের খাবার। বাউলরা নাকি পথে ঘাঁটে গান করে ঘুরে বেড়াতেন। আর সেই সময় বাড়ি বাড়ি ঘুরে গান শোনাতে গিয়ে লোকজন তাদের চাল-ডাল দিত। সেসব একসঙ্গে মিশিয়ে তারা রান্না করে খেতেন। পরে এর নাম হলো 'খিচুড়ি'।

আবার কান পেতে শোনা— একসময় গ্রামাঞ্চলের মানুষ বর্ষার সময় চারপাশ অথৈ পানিতে কানায় কানায় ভরে গেলে বাজারে যাওয়া কষ্টকর হতো। তাই ঘরে থাকা চাল আর ডাল দিয়ে গৃহিণীরা খিচুড়ি রান্না করতেন। 

এ ছাড়া বৃষ্টিতে কাঠ ভিজে গেলে রান্না করতে সময় লাগে। তাই চাল-ডাল দিয়ে সহজেই তৈরি করা যেত খিচুড়ি। আবার কখনো কখনো গাছে থাকা কোনো সবজি কিংবা আলু কেটে মিশিয়ে দিতেন খিচুড়িতে। তৈরি হয়ে যেত সবজি খিচুড়ি। ঝড়বৃষ্টির মধ্যে সহজে আর কম সময়ে রান্নার জন্য খিচুড়ি ছিল উপযুক্ত পদ। বহু বছরের সেই ঐতিহ্যই একসময় পরিণত হয় অলিখিত নিয়মে— খিচুড়ি।

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি