২৪ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন করা হচ্ছে: আইজিপি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন করা হচ্ছে: আইজিপি


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মহানগর পুলিশ লাইনসে কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজি যারা করে, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি তারা। হয় সন্ত্রাসী অথবা কোনো না কোনো ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা এই কাজগুলো করে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ সাক্ষ্য দিতে চায় না এবং থানায় অভিযোগও করতে চায় না।

তিনি বলেন, আমি আসার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীকে এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটা নতুন আইন করার কথা বলেছি। পুলিশ যেন মামলা দিতে পারে এবং পুলিশই যেন ব্যবস্থা নিতে পারে, জনগণের কমপ্লেইন করার দরকার নেই, ডিজিটাল এভিডেন্সসহ যেকোনো ধরনের এভিডিন্স পেলে যেন সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, এ বিষয়ে আগামী কিছুদিনের মধ্যে দেখবেন নতুন আইন হচ্ছে। এগুলো সমাজ থেকে নির্মূল হবে।’

পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমানো এবং জনআস্থা ফিরিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশের কার্যক্রমের কারণে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই আস্থা পুনরুদ্ধার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকরভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই তার খুলনায় আসা।

তিনি বলেন, যৌথ অভিযান চলছে মাদকের বিরুদ্ধে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। পুলিশি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার জন্য আইনি কাঠামোর মধ্যে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিং এখন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আইজিপি বলেন, কিছু অপরাধীরা খুন হচ্ছে, আবার কিছু অপরাধী খুন করছে। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে কেউ বলছে—বল প্রয়োগ করা হোক। বল প্রয়োগ করলে বলা হয়, পুলিশ ফ্যাসিস্ট। বল প্রয়োগ না করলে বলা হয়, পুলিশ দুর্বল। সুতরাং এগুলো আমরা দেখতে চাই না। সবাই মিলে একটি কার্যকরী পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে মাদককে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ৫ আগস্ট এর পরে সমাজের কী অবস্থা ছিল? পুলিশ ছিল না, সব জায়গায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এখন সব জায়গায় পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশে বেকারত্বসহ বিভিন্ন সমস্যা, সব সমস্যার তো একদিনে রাতারাতি পরিবর্তন হবে না। অবস্থার তো এখন উন্নতি হয়েছে। পুলিশকে সহযোগিতা করুন, পুলিশকে পরামর্শ দেন।

আইজিপি বলেন, আমরা মানবিক পুলিশ হতে চাই, জনবান্ধব পুলিশ হতে চাই। এটা করতে গেলে আবার অনেকে বলছে, অপরাধীরা পুলিশকে ভয় পায় না। তাদের আইনের আওতায় আনা হলেও কিছুদিন পর আবারও একই কার্যক্রম করছে। আমরা পলিসি ডেভেলপমেন্ট করছি, কীভাবে তাদের নির্মূল করা যায়।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি