২৩ মে ২০২৬

চলাচলে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি শার্শার মাটিপুকুরে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
চলাচলে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি শার্শার মাটিপুকুরে
রাজু রহমান,যশোর জেলা প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের মাটিপুকুর গ্রামের প্রধান সড়কটি যেন উন্নয়নশূন্য এক জনপদের প্রতিচ্ছবি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় পার হলেও মাত্র দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কাঁচা রাস্তাটি আজও পাকা হয়নি।লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার অস্তিত্বই হারিয়ে যায় কাদার নিচে। রাস্তাটিতে কোথাও নেই ইট, নেই খোয়া, এমনকি পাকা করার কোনো প্রস্তুতিও নেই—রাস্তার মুখ পর্যন্ত যেন কেউ দেখতে আসেননি। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লাওতাড়া স্কুল থেকে কিছুটা মাঠ হয়ে মাটিপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কোথাও নেই উন্নয়নের সামান্য ছোঁয়া। ইট-বালুর তো প্রশ্নই আসে না, পথজুড়ে শুধু কাদা আর জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিনের অবহেলায় রাস্তার এমন দশা যে, দেখে মনে হয় এটি কোনো চাষের জমি—নয় যেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী প্রধান চলাচলের সড়ক। এই রাস্তায় চলতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় আশপাশের ৫-৬টি গ্রামের মানুষকে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, বৃদ্ধ, শিশুরা প্রতিদিন যাতায়াত করে এই কাদাময়, পিচ্ছিল পথে। বর্ষাকালে কারও হাঁটাও দায় হয়ে পড়ে, কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে যায়। লাওতাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মারিয়া বলেন, “আমি প্রতিদিন এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে মাদ্রাসায় যাই। কাদায় পা ফেললেই জুতা আটকে যায়। অনেক সময় জামা-কাপড় ভিজে যায়। আমরা অনেক কষ্ট করছি—সরকারের কাছে আবেদন, যেন এই রাস্তা পাকা করে আমাদের কষ্ট লাঘব করে।” স্থানীয় নারী ফাতেমা খাতুন বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে চরম বিপদে পড়তে হয়। একবার এক মা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন। ভ্যানে উঠানো যায় না, অ্যাম্বুলেন্স তো ঢুকতেই পারে না। আমাদের যেন কেউ দেখার নেই—সরকার আসে, যায়, কিন্তু আমাদের কষ্ট থেকে যায় সেই আগের মতোই।” এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী নাজিব হাসান বলেন,“লাওতাড়া স্কুলের পাশে আমরা প্রায় ৩০০ ফুট একটি রাস্তা নির্মাণ করেছি। মাটিপুকুর এলাকার রাস্তার বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে বিস্তারিত যাচাই করতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবভিত্তিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কি না, সেটা দ্রুত দেখব।” [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

FIRDAUS FASHIONS


FIRDAUS FASHIONS

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি