ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সিআইডির একটি মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি গুলশান বিভাগ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, সিআইডিতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলার সূত্রে সিআইডির অনুরোধে তাকে বনানী থেকে সন্ধ্যা ৬টায় গ্রেপ্তার করা হয়।দিলিপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ :
অর্থ পাচারে সিআইডির মামলা
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ৬৭৮ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গুলশান থানায় এ মামলাটি করেছিল সিআইডি।
সেই সময় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডির জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সিআইডি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন করেছে।
প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণে চোরাচালান ও উৎসহীন অর্থ উপার্জনের সত্যতা মেলায় সোমবার দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার মানি লন্ডারিং মামলা করে সিআইডি।
দুদকের অভিযোগ
২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও আওয়ামী লীগ নেতা দিলীপ কুমার আগরওয়ালার সাতটি ফ্ল্যাট, দুটি দোকানসহ ৩৩ দলিলের স্থাবর সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দিয়েছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামি দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করার অভিযোগ রয়েছে। আগরওয়ালা এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা ও ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলনসহ সর্বমোট ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন।
সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিএনপিকর্মীকে হত্যা মামলা
গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপিকর্মী হৃদয় আহমেদ (১৬) মারা যায়। এ ঘটনায় গত ২২ আগস্ট মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৬১ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় দিলীপ কুমারের বিরুদ্ধে হত্যা ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। এ মামলার ২০ নম্বর আসামি তিনি।
কাঁচের জুয়েলারি ডায়মন্ড বলে বিক্রির প্রতারণা
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন শোরুমে কৃত্রিম বা কাঁচের তৈরি অলঙ্কারকে আসল ডায়মন্ড হিসেবে বেশি দামে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সিআইডির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন জেলায় নামমাত্র শোরুমের মাধ্যমে প্রকৃত ডায়মন্ডের বদলে উন্নত মানের কাঁচের টুকরাকে ডায়মন্ড হিসেবে বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি দুবাই ও সিঙ্গাপুরে সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ভারতের কলকাতায় তিনটি জুয়েলারি দোকান ও ১১টি বাড়ি এবং মালয়েশিয়া, দুবাই ও কানাডায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে তথ্য রয়েছে।
২০২৪ সালে জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ (আলমডাঙ্গা ও সদরের একাংশ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন।
বিপি > এসপি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, কী ঘটেছিল জানালেন বাবা-মা
সঙ্গীত একাডেমি