২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে বেজে উঠল উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে বেজে উঠল উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত

জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য সারিবদ্ধ দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা। ছবি : এক্স থেকে

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  শুরু হওয়ার আগেই নানা বিতর্ক, প্রশাসনিক জটিলতা ও লজিস্টিক সমস্যায় আলোচনায় এসেছে জাপানে অনুষ্ঠিত ২০২৬ এশিয়ান গেমস। এবার দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার পুরুষদের হকি ম্যাচকে ঘিরে ঘটল আরও একটি বিব্রতকর ঘটনা।

গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংগীতের পরিবর্তে বাজিয়ে দেওয়া হয় উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত।

ম্যাচ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী দুই দলের খেলোয়াড়েরা জাতীয় সংগীতের জন্য মাঠে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তখনই আয়োজকদের এই বড় ধরনের ভুল ধরা পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়েরা বিষয়টি বুঝতে পেরে স্পষ্টতই হতবাক হয়ে যান।

পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বুঝতে পেরে স্টেডিয়ামের অ্যানাউন্সার মাইকে ক্ষমা চান। দক্ষিণ কোরিয়ার দল ও গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত, সত্যিই অত্যন্ত লজ্জিত। রিপাবলিক অব কোরিয়ার জাতীয় সংগীতের জায়গায় আমরা ভুলবশত অন্য গান বাজিয়ে ফেলেছিলাম। এর জন্য আমি সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী।’

দুই কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের কারণে ঘটনাটি সাধারণ কোনো সাউন্ড সিস্টেমের ভুলের চেয়ে অনেক বেশি স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত দুই দেশ যুদ্ধে জড়িয়েছিল। সেই যুদ্ধের পর পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হয়নি; অস্ত্রবিরতির মাধ্যমেই সংঘাত থামে। ফলে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও রয়েছে।

এই সংবেদনশীল সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানোর বিষয়টিও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে আন্তর্জাতিক একটি ক্রীড়া আসরে এমন ভুল আয়োজকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবে মাঠের খেলায় এই ঘটনার কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নেয় তারা।

জাতীয় সংগীত নিয়ে এই ভুল অবশ্য ২০২৬ এশিয়ান গেমসকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যকার সর্বশেষ ঘটনা। গেমসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর আগেই আয়োজকদের লজিস্টিক পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

খরচ কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবার এশিয়ান গেমসে অ্যাথলেটদের জন্য প্রচলিত আলাদা ‘গেমস ভিলেজ’ রাখা হয়নি। এর পরিবর্তে খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভিন্ন বিকল্প আবাসনে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রুজ শিপ, কনটেইনার হোটেল এবং সাধারণ বাণিজ্যিক হোটেল।

এই ব্যবস্থার কারণে জাপানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন দেশের দলকে আবাসন ও অন্যান্য লজিস্টিক সুবিধা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটদেরও এমন ভোগান্তির মুখে পড়ার খবর এসেছে। এমনকি কারও কারও আবাসন নিশ্চিত হওয়ার আগে ওয়েটিং সেন্টারের মেঝেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কিংবা ঘুমিয়ে সময় কাটানোর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। ফলে মাঠের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আয়োজক ব্যবস্থাপনা নিয়েও শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছে এবারের এশিয়ান গেমস।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি