৫ আগস্ট ২০২৬

দুবাইয়ে সাইফুজ্জামান জাবেদসহ ৭৩ জনের সম্পদের খোঁজ নিচ্ছে দুদক

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
দুবাইয়ে সাইফুজ্জামান জাবেদসহ ৭৩ জনের সম্পদের খোঁজ নিচ্ছে দুদক

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ ৭৩ জন অর্থ পাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সম্পদ গড়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে দেশটির সরকারের কাছে তথ্য চাইবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদ ‘আনকাক’ অনুযায়ী, দেশটিতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হবে। চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি আদান-প্রদান করে থাকে। 
দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা অর্থ পাচার করে দেশটির অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিক হয়েছেন। তারা দেশটির বিশেষায়িত গোল্ডেন ভিসাপ্রাপ্ত।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পাচার অর্থে দুবাইয়ে অর্জিত সম্পদের তথ্য চেয়ে দুদকের অনুসন্ধান টিম সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। অনুসন্ধান টিম অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে। সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর টিমের পক্ষ থেকে কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করা হবে। পরে কমিশন দুদক আইন ও বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। 
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা-২০১৯-এর বিধি ৩০, ফরম-৫ অনুযায়ী বিএফআইইউর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। জানা গেছে, বিএফআইইউ দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে দুদকে পাঠাবে। ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটভুক্ত দেশগুলো তাদের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এক দেশ অন্য দেশকে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করে থাকে।

দুদকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিএফআইইউর মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পর দালিলিকভাবে তথ্য চেয়ে ওই দেশের সরকারের কাছে এমএলএআর পাঠানো হবে। এরই মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও নির্বাচন কমিশন থেকে ৭৩ জনের যাবতীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অর্থ পাচার করে দুবাইয়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন ও সহকারী পরিচালক আশীকুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম।

জানা গেছে, অর্থ পাচার করে ৫৪৯ জন বাংলাদেশির দুবাইয়ে ৩১৫ মিলিয়ন ডলারে মোট ৯৭২টি আবাসনের মালিক হওয়ার একটি অভিযোগ দুদক প্রথমে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানকালে এনবিআর, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ওই ৭৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে দুবাইয়ে তাদের যাতায়াত, অবস্থান করার প্রমাণও রয়েছে অনুসন্ধান টিমের কাছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাত ছাড়াও আছেন আহসানুল করীম, আনজুমান আরা শহীদ, হুমায়রা সেলিম, জুরান চন্দ্র ভৌমিক, মো. রাব্বী খান, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ অলিউর রহমান, এস এ খান ইখতেখারুজ্জামান, সৈয়দ ফাহিম আহমেদ, সৈয়দ হাসনাইন, সৈয়দ মাহমুদুল হক, সৈয়দ রুহুল হক, গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া, হাজী মোস্তফা ভূঁইয়া, মনজ কান্তি পাল, মো. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মো. মাহবুবুল হক সরকার, মো. সেলিম রেজা, মোহাম্মদ ইলিয়াস বজলুর রহমান, এস ইউ আহমেদ, শেহতাজ মুন্সী খান, এ কে এম ফজলুর রহমান, আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ, গুলজার আলম চৌধুরী, হাসান আশিক তাইমুর ইসলাম, হাসান রেজা মহিদুল ইসলাম, খালেদ মাহমুদ, এম সাজ্জাদ আলম, মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী, মোস্তফা আমির ফয়সাল, রিফাত আলী ভূঁইয়া, সালিমুল হক ঈসা/হাকিম মোহাম্মদ ঈসা, সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান/সৈয়দ কামরুজ্জামান, সৈয়দ সালমান মাসুদ, সৈয়দ সাইমুল হক, আবদুল হাই সরকার, আহমেদ সামীর পাশা, ফাহমিদা শবনম চৈতি, মো. আবুল কালাম, ফাতেমা বেগম কামাল, মোহাম্মদ আল রুমান খান, মায়নুল হক সিদ্দিকী, মুনিয়া আওয়ান, সাদিক হোসেন মো. শাকিল, আবদুল্লাহ মামুন মারুফ, মোহাম্মদ আরমান হোসেন, মোহাম্মদ শওকত হোসেন সিদ্দিকী, মোস্তফা জামাল নাসের, আহমেদ ইমরান চৌধুরী, বিল্লাল হোসেন, এম এ হাশেম, মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন চৌধুরী, নাতাশা নূর মুমু, সৈয়দ মিজান মোহাম্মদ আবু হানিফ সিদ্দিকী, সায়েদা দুররাক সিনদা জারা, আহমেদ ইফজাল চৌধুরী, ফারহানা মোনেম, ফারজানা আনজুম খান, কে এইচ মশিউর রহমান, এম এ সালাম, মো. আলী হোসেন, মোহাম্মদ ইমদাদুল হক ভরসা, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ রোহেন কবীর, মনজিলা মোর্শেদ, মোহাম্মদ সানাউল্যাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ সরফুল ইসলাম, সৈয়দ রফিকুল আলম ও আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি