৩ এপ্রিল ২০২৬

ফাঁসির আসামি থেকে সংসদ সদস্য

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
ফাঁসির আসামি থেকে সংসদ সদস্য

লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও আজহারুল ইসলাম।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   শুধু দীর্ঘ কারাবাস নয়; প্রহসনের বিচারে রীতিমতো মৃত্যুদণ্ড। বলা যায়, মাথার উপরেই ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। কিন্তু নিয়তির পরিকল্পনা ভিন্ন। জুলাইয়ের রক্ত বন্যায় ভেসে যায় ফ্যাসিবাদ। এরপর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। আসে বহুল প্রতীক্ষিত সেই নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়ান নেতারা। কিন্তু নিরাশ হননি কেউ। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।

বাবর : ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হন। এরপর একদিনের জন্যও জামিন মেলেনি তার। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর। পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে মলিন মুখে তার হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ছিল চিরচেনা। বাবর আর কোনোদিন জেল থেকে মুক্তি পাবেন এমন ভাবনাও ছিল সুদূরপরাহত। কিন্তু সেটাই আজ বাস্তব।

আগস্টে পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান বাবর। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ফিরে যান নিজের নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

পিন্টু : বাবরের মতোই আরেক বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু। ২১ আগস্টের সেই গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের ইতি ঘটে। এরপর তিনিও ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ভোটে বিজয়ী হন পিন্টু।

আজহার : বিপুল ভোটে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেন তিনি। অথচ আর কিছুদিন গেলেই হয়তো তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো। ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসাবে পরিচিত সেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পরই গ্রেফতার হন আজহার। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগ ধরে কারাবন্দি ছিলেন তিনি। গত বছর ২৮ মে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। সূত্র: যুগান্তর

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি