৩ এপ্রিল ২০২৬

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ তিনটিতে ও বিদ্রোহীরা দুইটিতে জয়ী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ তিনটিতে ও বিদ্রোহীরা দুইটিতে জয়ী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত এবং সদর ও সাঘাটা উপজেলায় স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে।

সোমবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও রিটার্নিং অফিসার রোখছানা বেগম এবং জেলা সার্ভার স্টেশনের সম্মেলন কক্ষে জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন।

জয়লাভ করা আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হলেন সাদুল্লাপুর উপজেলায় সাহারিয়া খাঁন, পলাশবাড়ীতে এ কে এম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ ও ফুলছড়িতে জি এম সেলিম পারভেজ এবং স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীরা হলেন সদরে শাহ সারোয়ার কবীর ও সাঘাটায় জাহাঙ্গীর কবীর।

সাদুল্লাপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাহারিয়া খাঁন পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭৭৯ ভোট, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সাআদাত শাহ মো. ফজলুল হক (বিদ্রোহী) পেয়েছেন ৩০ হাজার ৫৬০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান ২৬ হাজার ৭৬০ ভোট, আকতার বানু লাকী ১১ হাজার ৫৭৩ ভোট এবং জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান সরকার (বিদ্রোহী) পেয়েছেন দুই হাজার ৯৮ ভোট। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে এটিএম দিদারুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৫৫৬ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোন্তেজার রহমান পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৫০ ভোট এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ইসরাত জাহান স্মৃতি পেয়েছেন ৫৮ হাজার ১৮০ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রেহেনা বেগম পেয়েছেন ২৪ হাজার ৬৭৯ ভোট।

পলাশবাড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত এ কে এম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯৪৭ ভোট, জাতীয় পার্টির মমতাজ উদদীন পেয়েছেন ১০ হাজার ৩৮০ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বজলার রহমান পেয়েছেন ১৭৫০ ভোট। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে এ এস এম রফিকুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ১৪ হাজার ১১৩ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবু রেজা মো. ফিরোজ কামাল চৌধুরী পেয়েছেন ১২ হাজার ৮০০ ভোট এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আনোয়ারা বেগম পেয়েছেন ২১ হাজার ৭২৪ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্তা বেগম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫২৯ ভোট।

ফুলছড়ি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত জি এম সেলিম পারভেজ পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮০৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাঈদ ১৩ হাজার ৯৮৯ ভোট, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান (বিদ্রোহী) দুই হাজার ৫২৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মো. বেলাল হোসেন ইউসুফ পেয়েছেন ১২৪ ভোট। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে হুকুম আলী ১৪ হাজার ২৮৮ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৪ হাজার ২১৬ ভোট এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আঞ্জু মনোয়ারা বেগম পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯০ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাখিয়া পারভিন পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৩২ ভোট।

সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহ সারোয়ার কবীর (বিদ্রোহী) পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৫৫ ভোট, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পিয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ২৯ হাজার ৫০৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইস্তেকুর রহমান সরকার ১১ হাজার ১৪৬ ভোট ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৯৮২ ভোট। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে নূর-এ-হাবীব টিটন পেয়েছেন ২৬ হাজার ৯১৭ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রনজিৎ বকসী সূর্য্য পেয়েছেন ২১ হাজার ২০৭ ভোট এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাসলিমা সুলতানা স্মৃতি পেয়েছেন ২৮ হাজার ৩৬২ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আরিফা আক্তার পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৮৩ ভোট।

সাঘাটা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর কবীর (বিদ্রোহী) পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯৩৬ ভোট, আওয়ামী লীগ মনোনীত এস এম সামশীল আরেফিন টিটু পেয়েছেন ৪০ হাজার ৭৯৯ ভোট, জাতীয় পার্টির এ কে এম মমিতুল হক সরকার পেয়েছেন তিন হাজার ৮৭ ভোট ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মাছুদুর রহমান প্রধান পেয়েছেন ৫০৩ ভোট। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে সহিদুল ইসলাম বিপ্লব পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৮৯ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৩৯ ভোট এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পারভীন আক্তার পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮২২ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রওশন আরা বেগম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৯৪ ভোট।

নির্বাচন উপলক্ষে সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহন শুরু হয়ে চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। গাইবান্ধায় ছোট-খাটো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়নের বাঁশহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা কচুয়াহাট গ্রামের জাকির হোসেন (২৪) বলেন, ঢাকা থেকে এসেছি ভোট দিতে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে ভালোই লেগেছে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার নারায়নপুর সুখনগর, জুবিলী ও পিয়ারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়নি ভোটারদের। ছিলনা ভীড়। ভোটাররা এসে অপেক্ষা ছাড়াই ভোট দিয়ে গেছেন। শুধু ব্যতিক্রম দেখা গেছে, সাঘাটা উপজেলার বাঁশহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে। এই কেন্দ্রে সকাল থেকেই ছিল নারী ভোটারদের ভীড়। লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তাদের ভোট দিতে হয়েছে। এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কাইয়ুম আলী বলেন, এই কেন্দ্রে প্রায় ৮০ শতাংশের মতো ভোট জমা পড়েছে।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি