গল্পের ছলে জামায়াত-এনসিপির কড়া সমালোচনা করলেন ফজলুল হক মিলন
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: গত ১৬/১৭ বছর বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কড়া সমালোচনা করেছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
তিনি গল্পের ছলে দুই দলের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বুধবার (১৫ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিএনপির এই সংসদ সদস্য এ সমালোচনা করেন।
ফজলুল হক মিলন বলেন, অনেকে আন্দোলনে যোগদান করেছেন, কখন করেছেন, কোন সময় করেছেন, কোন অবস্থায় করেছেন, কোত্থেকে করেছেন- আমরা জানি। কিসের নিচ থেকে আসছেন সেটাও বলতে চাই না, সবাই জানে। কখন এসেছেন সেটাও জানি। এ প্রসঙ্গে আমি শুধু ছোট্ট একটি গল্প বলি আপনাদের বুঝাতে চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার- একজন শিক্ষক ছাত্রকে বলছেন এদিকে আয় তো। ওই বাড়ি থেকে একটা দাও আন- আমি ডাব খাব। তখন ছাত্র বলল- স্যার, এখন যদি ডাব কাটার জন্য ওই বাড়ি থেকে দাও নিয়ে আপনার দিকে আসি- মানুষ মনে করবে শিক্ষকের দিকে ধাবিত হচ্ছে দাও নিয়া। মানুষ বুঝতে পারবে না, বেয়াদব বলবে। এ দাও আমি কেমনে আনি। তখন স্যার বললেন- ঠিক আছে তুই বস; আমি আনি। স্যার আসার পরে বলেন- এখন গাছে উঠ। ডাব পেরে আমাকে খাওয়া। তখন ছাত্র বলে- স্যার আমি এত বেয়াদবি শিখেছি- যে আপনি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকবেন আর আমি আপনার মাথার ওপরে দাও নিয়ে উঠব। মানুষ মনে করবে শিক্ষক দাঁড়িয়ে আছে নিচে; ছাত্র উঠছে মাথার উপরে। এটা স্যার সম্ভব না, এটাও ঠিক না। স্যার বলেন- ঠিক আছে এটাও মানলাম। এরপর শিক্ষক দাও গাছে উঠে ডাব কাটেছেন। এবার স্যার ওই ছাত্রকে বললেন- এখন ডাবটা কাইটা খাওয়া। তখন ছাত্র মনে মনে বলে- দুইবার স্যারের কথা রক্ষা করি নাই। এবার ছাত্র ডাব কেটে খেয়ে ফেলে। তার এই বক্তৃতায় সংসদে হাসির রোল পড়ে।
মিলন বলেন, আমাদের বিরোধী দলীয় বন্ধুরাও এমন সম্মান দেখাতে গিয়ে যখন খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়, তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠানো হয়, হাজার হাজার লোককে খুন করা হয়, ইলিয়াস আলী উধাও হয়ে যায়, চৌধুরী আলম উধাও হয়ে যায়, জাকির উধাও হয়ে যায়, সুমন উধাও হয়ে যায়- এ সমস্ত আন্দোলন-সংগ্রামের সময় যখন হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে- সেই ভাইদের কিন্তু তখন তেমন একটা রাজনৈতিক অঙ্গণে আমরা দেখা পাই নাই। কাজেই হাজারো রক্তের বিনিময়ে ধারাবাহিক আন্দোলনের ১৬/১৭ বছর যা চলল তার একেবারে- শেষে ডাব কাটার মতো সুযোগ বুঝে আপনারা এখানে অংশগ্রহণ করেছেন। এখানে অংশগ্রহণ করে এ আন্দোলনকে কুক্ষিগত করার জন্য প্রতিদিনই সংসদে মাননীয় স্পিকার, মাননীয় স্পিকার বলে হাত তুলে একটা কথা বলে সনদ নিয়ে কথা বলে যাচ্ছেন। সনদও বুঝি, ব্যাখ্যাও বুঝি, সংস্কারও বুঝি ও সংশোধনও বুঝি। কিছু বোঝার কিন্তু বাকি নাই। অতএব মানুষকে বুঝতে দেন; সঠিক পথে আসেন।
তিনি বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা অতীতে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করার চেষ্টা করেছি। ‘শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির, লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির’। আরে শৈবাল এক ফোটা শিশির ফালাইয়া দিঘিরে বলে মনে রাখিস বেডা। অথচ পুরা শৈবালের অস্তিত্ব নির্ভর করছে গোটা পানির উপরে। অথচ তারা ওই শিশিরবিন্দুর মতো অবদান রেখে এখন বিভিন্ন চিৎকার করছে। এগুলো করার দরকার নাই। ভালোভাবে আছেন সুন্দর করে আছেন- উভয়ে মিলে এসে দেশকে গড়ে তুলতে চাই। সেই সহযোগিতা আপনাদের কাছে কামনা করি। হঠাৎ করে ওয়াকআউট, এদিক-ওদিক তাকানো ও কানকথা বাদ দিয়ে আসুন আমরা সবাই মিলে মানুষের কল্যাণে কাজ করি। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটিতে নির্বাচনের ঘোষণা মঞ্জুর, দাবি বাকেরের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি