১৭ জুলাই ২০২৬

গোল্ডেন বুটের হিসাবে কি ধরা হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল?

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
গোল্ডেন বুটের হিসাবে কি ধরা হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল?

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তে এসে এখন বাকি রয়েছে মাত্র দুটি ম্যাচ। আগামী রোববার আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনালের আগে শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। তবে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব খুব বেশি নয়। আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারের পর তিনি জানিয়েছিলেন, খেলোয়াড়দের মূল লক্ষ্য ছিল ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।

টুখেল বলেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না, ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল।’

তবে ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের এই লড়াই অন্য এক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাইজমানি বাদে ম্যাচের গোলগুলোও যোগ হবে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের হিসাবের সঙ্গে। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জয়ের দৌড়ে এখনো রয়েছেন দুই দলের চার ফুটবলার—কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম ও উসমান দেম্বেলে। সূত্র: যুগান্তর

আট গোল করে বর্তমানে গোলসংখ্যায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন ফ্রান্সের এমবাপ্পে। তবে অ্যাসিস্টের দিক থেকে এগিয়ে থাকায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সাত গোল করে তৃতীয় স্থানে ছিলেন আর্লিং হালান্ড, কিন্তু নরওয়ে বিদায় নেওয়ায় তার গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।

ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন ছয়টি করে গোল নিয়ে তালিকার পরের সারিতে রয়েছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবাল করেছেন পাঁচটি করে গোল। ফলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড তাদের সেরা একাদশ নামায় কি না, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে গোল্ডেন বুটের চূড়ান্ত ফলাফল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে থ্রি লায়ন্স কোচ গ্যারেথ সাউথগেট সেমিফাইনালের একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন করেছিলেন। সেই ম্যাচে গোল্ডেন বুটজয়ী হ্যারি কেইন খেললেও গোলের দেখা পাননি।

এর আগে বেশ কয়েকজন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন। ২০১০ সালের জার্মানির থমাস মুলার, ১৯৯৮ সালের ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকার, ১৯৯০ সালের ইতালির সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ সালের ব্রাজিলের লিওনিদাস—তারা সবাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেই গোল্ডেন বুট জয়ের পথে এগিয়ে যান।

এছাড়া ১৯৭৪ সালের পোল্যান্ডের গ্রেগর লাতো, ১৯৬৬ সালের পর্তুগালের ইউসেবিও এবং ১৯৫৮ সালের ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও তাদের ক্ষেত্রে ওই ম্যাচে গোল না করলেও গোল্ডেন বুট জেতার সুযোগ ছিল। এবারও ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচের পারফরম্যান্সই ঠিক করে দিতে পারে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার ভাগ্য।

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন যারা

  • লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা - ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট)
  • কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স - ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট)
  • আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে - ৭ গোল)
  • জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড - ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট)
  • হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড - ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট)
  • উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স - ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট)
  • মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন - ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট) 
  • বিপি>টিডি
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি