২১ জুলাই ২০২৬

হাম-ডেঙ্গুর জোড়া থাবায় একদিনেই মৃত্যু ৮

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
হাম-ডেঙ্গুর জোড়া থাবায় একদিনেই মৃত্যু ৮

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দেশজুড়ে একের পর এক থাবা বসাচ্ছে মশাবাহিত রোগ ও সংক্রামক ব্যাধি। একদিকে হাম ও এর উপসর্গে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু। অন্যদিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণও দিন দিন রূপ নিচ্ছে নতুন উদ্বেগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবারের (২০ জুলাই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিন জন—যা এ বছর ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। প্রতিদিন শত শত মানুষ আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় জমাস্ফোট তৈরি করায় পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

হাম: হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। তবে এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৯২২ জনের আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪৭ জনের।

সরকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৯৮ জনের। আর হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে সিলেট ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে একজন করে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত হাম উপসর্গের রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ আর নিশ্চিত হামের ১৪ হাজার ৫৭৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২৬ জন, যাদের মধ্যে ৯৭ হাজার ৫৩২ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

ডেঙ্গু: মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ভুগে ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৩৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে রোগটিতে মারা গেলেন মোট ৩৭ জন। অন্যদিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ১০ হাজার ৮৫৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৩ জন। ঢাকা উত্তর সিটিতে ২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং রংপুর বিভাগে ছয়জন রোগী রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী। এই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন মোট ৯ হাজার ৭৮৬ জন।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি