৩০ আগস্ট ২০২৬

হুজুররা হাসানাতের বেলায় চেতছে, বিএনপির বেলায় চুপ: মাদানী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম
হুজুররা হাসানাতের বেলায় চেতছে, বিএনপির বেলায় চুপ: মাদানী

 

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে আলেমদের প্রতিক্রিয়ার তুলনা টেনেছেন শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি দাবি করেছেন, হাসনাতের সঙ্গে সম্পর্ক ও জুলাইয়ের আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার কারণেই তার বক্তব্যে কষ্ট পেয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেমরা।

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।

পোস্টে তিনি লেখেন, যারা বলার চেষ্টা করছেন—এই হুজুররা হাসানাতের বেলায় এত চেতছে, অথচ ফজলুর রহমান, রুমিন ফারহানা বা অন্য কেউ বললে তো এত চেতে না। এর মাধ্যমে তারা ‘ফান্ডিং আন্দোলন’ করেন—এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর জবাবে মাদানী প্রশ্ন তোলেন, বাই রাজুতে আসেন বলার পর রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের ডাকে কোন মাদ্রাসা ছাত্ররা গিয়েছিল শাহবাগে? কিংবা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে কার ডাকে স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসা ছাত্ররা গিয়েছিল?

হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে নিজের যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে মাদানী বলেন, একদিন হাসনাত তাকে ফোন করে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় আসতে বলেছিলেন। এতে তিনি অবাক হয়েছিলেন, কারণ তার নম্বর হাসনাত কোথা থেকে পেয়েছিলেন, তা তার জানা ছিল না।


মাদানী বলেন, পরে তিনি সঙ্গে থাকা লোকজনকে নিয়ে ঢাকায় যান এবং শাহবাগে অনেক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকেও উপস্থিত দেখতে পান। দেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসনাতের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে আয়োজিত মাহফিলেও গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমানকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন মাদানী। তাদের ‘বাইরের এজেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমান—এ ধরনের লোক পায়ে ধরে সারাদিন পড়ে থাকলেও আমরা কোথাও যাব না। এদের আমরা বাইরের এজেন্ট মনে করি। এদের বক্তব্যের মাঝেমধ্যে প্রতিবাদ করি, আবার করিও না!

হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলাম মাদ্রাসা বা মসজিদে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের মানুষ মনে করে সম্মান ও ভালোবাসা দেখান বলেও দাবি করেন মাদানী।

তিনি লেখেন, ‘এখন সেই মানুষগুলো যখন সংসদের মতো জায়গায় এভাবে না জেনে, না শুনে বক্তব্য দিলে কষ্ট তো লাগবেই!’

মাদানীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে থাকা ‘শাহবাগী মার্কা কথা বলা’ ব্যক্তিদের বক্তব্যে আলেমদের তেমন প্রতিক্রিয়া হয় না, কারণ তাদের তিনি ‘চিহ্নিত’ বলে মনে করেন। কিন্তু যাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং যাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্পর্ক রয়েছে, তারা এমন কিছু করলে সেটিকে তিনি ‘বেঈমানী’ হিসেবে দেখেন।

পোস্টের শেষ দিকে তিনি লেখেন, ‘ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না!
বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি