৩১ অক্টোবর ২০২৬

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে ১৩০ বিলিয়ন ডলার আয় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে ১৩০ বিলিয়ন ডলার আয় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শেভরনের একটি ফিলিং স্টেশন।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। বেড়েছে তেল, গ্যাস ও জ্বালানির দাম। এতে সাধারণ মানুষ যখন বাড়তি খরচের চাপে বিপাকে, তখন যুদ্ধের সুযোগে বিপুল মুনাফা করছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে দেশটির ৫০টির বেশি বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মুনাফা করেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

২০২৫ সালের একই সময়ে এসব কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও কম। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিগুলোর মুনাফা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়ে।

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ফলে যেসব শোধনাগার এখনো সচল রয়েছে, সেগুলো বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করে বিপুল মুনাফা করছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহৎ তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরন তৃতীয় প্রান্তিকে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত তাদের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সনমোবিলের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। শেভরনের মুনাফা বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।

যুদ্ধের কারণে শুধু কোম্পানিগুলোর মুনাফাই বাড়েনি, মার্কিন নাগরিকদের জ্বালানি ব্যয়ও বেড়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ অতিরিক্ত প্রায় ১৪৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন পেট্রোল ও ডিজেল কিনতে। এর অর্থ, গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে অতিরিক্ত ১ হাজার ১০০ ডলারের বেশি খরচ করতে হয়েছে।

এক্সনমোবিলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নেইল হ্যানসেন বলেন, জ্বালানির বাড়তি দাম পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করছে, তা তারা স্বীকার করেন। তবে রাতারাতি বিনিয়োগ বাড়িয়ে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। আজকের উৎপাদন সক্ষমতার পেছনে বহু বছর আগের বিনিয়োগ ও সিদ্ধান্ত কাজ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজারে সৃষ্ট সংকট কারা লাভবান হচ্ছে আর কারা এর মূল্য দিচ্ছে, সেই পুরোনো প্রশ্ন আবার সামনে এনেছে। একদিকে তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে জ্বালানির জন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।
বিপি > এসপি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি