২৬ মে ২০২৬

ঝিনাইদহে বিয়ে হয় না যে গ্রামের মেয়েদের!

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
ঝিনাইদহে বিয়ে হয় না যে গ্রামের মেয়েদের!
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: চার কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় এই গ্রামের অবিবাতিহা মেয়েদের বর্ষাকালে বিবাহ হয় না। কাচা রাস্তার কারনে বর্ষা মৌসমে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় অন্তসত্তা মা ও স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীসহ এই অঞ্চলের জনসাধারনের। এই গ্রামেই ৩০ ফুট ফুট প্রশস্ত হ্যারিংবোন বা পাকাকরন তো দুরের কথা মাটি দ্বারা প্রয়োজনীয় সংস্কার করার অভাবে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের একেবারেই অযোগ্য থাকে। শুষ্ক মৌসুমেও কাদা শুকিয়ে থাকার কারনে চলাচল সহজতর হয়না তাই রাস্তাটির কারনে অভিসপ্ত জীবন যাপন করতে হচ্ছে এই জনপদের বাসিন্দাদেরকে। মাত্র ৪ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরনের অভাবে বর্ষার মৌসুমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে যায় ঝিনাইদহ সদরের ৫ নং গান্না ইউনিয়নের ভাদালীডাঙ্গা গ্রামের প্রতিবেশি গ্রামগুলোর জনগনের। দীর্ঘদিন কোন সংস্কার না করায় এই কাচা রাস্তায় বর্ষা মৌসুমে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। রাস্তার মাটি এঁটেল হওয়ায় এবং ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার চলাচল করায় পায়ে হেঁটে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠেছে এই রাস্তা দিয়ে। বর্তমানে এই রাস্তায় স্থান ভেদে তিন থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত কাদার গভিরতা আছে। গ্রামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সেটাও কাচা রাস্তা সংলগ্ন। শুধু কাদার কারনে ইচ্ছা থাকলেও পার্শবর্তী স্কুলে বা কলেজে যেতে পারে না এই গ্রামের ছাত্র ছাত্রীরা। তাই বাধ্য হয়েই এই গ্রামের শিশুরা অধিকাংশ অশিক্ষিত থাকে । স্কুলের সামনেও হাঁটু সমান কাদা থাকার কারনে কাদা মাড়িয়ে জুতা হাতে করে স্কুলে আসতে হয় তাই বর্ষার মৌসুমে ছাত্রীরা একেবারেই ক্লাসে আসে না বলে জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষক।গ্রাম থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী ৪ কিলোমিটার দুরে পাকা রাস্তা সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহি বানিয়াবহু মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেখানে এই গ্রামের দুই একজন ছাত্র ভর্তি হয় বর্ষার মৌসুমে তাদের ক্লাস করা সম্ভব হয়না। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানায় রাস্তায় অতিরিক্ত কাদার কারনে ছাত্র ছাত্রীরা আসতে পারে না দুই একজন যা আসে তারা লুঙ্গি পরে আসে তবে ছাত্রীরা একেবারেই আসতে পারে না।বর্ষার মৌসুমে মাত্রাতিরিক্ত কাদার কারনে কোন ধরনের যানবাহনে এই রাস্তায় চলাচল সম্ভব নয়। তাই কোন আত্মীয় স্বজন এই গ্রামে আসতে চায় না। শুধু কাদার কারনে অনেকে এই গ্রামে ছেলেমেয়ে বিয়ে দিতে চায় না। গত মাসে মাগুরার আত্মীয়র বাড়িতে বাচ্চু মন্ডলের কন্যা খাদিজাকে দেখে বিয়ের প্রস্তাব দেয় মাগুরার এক প্রবাসী ছেলে। সেখান থেকেই ঠিক হয় বিয়ের দিন তারিখ বাড়িতে চলে বিয়ের আয়োজন। মাগুরা থেকে বরসহ ৩০ জন বরযাত্রী আসে এই গ্রামে। বিয়ের গাড়ি এবং মটর সাইকেল গ্রাম থেকে তিন কিলোমিটার দুরে রেখে কাদা মাড়িয়ে মহিলা বরযত্রীদের বিয়ের বাড়িতে আসা সম্ভব হয়না বলে বিয়ে ভেঙ্গে যায় খাদিজার ।গভীর রাতে প্রসব বেদনা ওঠলে রাস্তায় কাদার কারণে যানবাহন না থাকায় কাধে করে কাদা পার করে নিয়ে যেতে অন্তসত্তা মা ও গর্ভের শিশুর মৃত্যু হয় এই গ্রামের আরেক বাসিন্দা আরব আলী মন্ডলের প্রথম স্ত্রীর। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে সন্তান সম্ভাব । আরব আলী মন্ডলের অন্তসত্তা ২য় স্ত্রীর বলে রাস্তায় তো অনেক কাদা চলাচল করা যায় না,আমার সব সময় ভয় হয় আমার আবার কি হয়। একজন কৃষক জানায় এই রাস্তার উভয় পাশে “কুড়ির বিল” এবং “ভোতনের” বিল নামে দুইটি বহু ফসলী মাঠ রয়েছে কিন্তু আমরা পাট চাষ করতে পারি না এই রাস্তার কাদার কারনে। এই রাস্তা দিয়ে কোন অবস্থাতেই পাট বহন করা সম্ভব নয় তাই আমাদের গ্রামের কোন চাষী পাট চাষ করতে পারে না, পাটের মৌসুমে বিশাল এই মাঠ দুইটির শত শত বিঘা জমি পতিত পরে থাকে।এই রাস্তা সংস্কার এবং পাকাকরনের ব্যাপারে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন যে, কোন কারনেই হোক রাস্তাটি করা সম্ভব হয়নি । মাননীয় এমপি’র সহযোগীতার রাস্তাটি পাকাকরনের বিষয়ে বার বার কথা বলেও কোন লাভ হয়নি। বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

FIRDAUS FASHIONS


FIRDAUS FASHIONS

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি