২৬ মে ২০২৬

ঝিনাইদহে ইতালি ফেরত দম্পতি নিয়ে হুলস্থুল, ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
ঝিনাইদহে ইতালি ফেরত দম্পতি নিয়ে হুলস্থুল, ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে

ঝিনাইদহ থেকে সংবাদদাতা : ইতালী থেকে দেশে ফিরেই ঝিনাইদহের এক দম্পত্তি ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদিকে শহরের হামদহ খোন্দকার পাড়ার এক কাস্টম কর্মকর্তার ছেলেও বাড়ি ফিরে শহরে চলাফেরা করে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর মাষ্টার পাড়ায় ইতালী ফেরৎ এক দম্পত্তি ঝিনাইদহে ফিরে শহরে মার্কেট করতে বের হয়। খবরটি দ্রত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগমকে জানানো হয়। সিভিল সার্জন ওই বাড়িতে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাঠিয়ে দেন। সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল কুমার বিশ্বাস বেলা ১১টার দিকে তাদের বাড়ি গিয়ে দেখেন তারা মার্কেট করতে বের হয়েছেন। খবর দিয়ে বাড়ি এনে তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা সিন্ধান্ত জানান। তবে তাদের কাছে ইতালি স্বাস্থ্য বিভাগের হেলথ কার্ড আছে। তারা করোনা ভাইরাস মুক্ত বলে ইতালী স্বাস্থ্য বিভাগ সনদ দিয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল কুমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, গত ৭ মার্চ কামাল-সোনালী দম্পত্তি ইতালী থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তারা চলে যান স্বামীর বাড়ি যশোরের চৌগাছা শহরে। সেখান থেকে সোমবার রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর মাস্টার পাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে এসে কেনা কাটার জন্য তারা ঝিনাইদহ শহরে বেরিয়ে পড়েন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, করোনা ভাইরাসের কোন লক্ষন তাদের মধ্যে নেই। তারা করোনা ভাইরাস মুক্ত বলে ইতালী সরকারের হেলথ কার্ড রয়েছে। তারপরও অধিক সতর্কতা অবলম্বনের জন্য তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

তবে বিকাল পর্যন্ত হামদহ খোন্দকার পাড়ার এক কাস্টম কর্মকর্তার ছেলের বিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জণ ডাঃ সেলিনা বেগম জানান, করোনা ভাইরাস নিয়ে কোন আতংকিত না হয়ে সচেতনতার মাধ্যমে আমরা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত নিচ্ছি। এ জন্য পরিত্যক্ত ঝিনাইদহ পুরাতন হাসপাতাল এলাকার খাবার স্যালাইন ফ্যক্টরি, বাস টার্মিনাল এলাকার শিশু হাসপাতাল ও শহরের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সচেতনতা বাড়াতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যারা বিদেশ থেকে আসবেন তাদেরকে নিজ বাসায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়ে সিভিল সার্জন সেলিনা বেগম জানান, লক্ষন দেখা গেলেই কেবল স্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসকদের তত্বাবধানে রোগীদের নেওয়া হবে।

তবে এটা নিজেদের বাসাতে করলেই রোগাক্রান্তদের জন্য ভাল হবে বলে তিনি জানান। তিনি ইতালী ফেরত ওই দম্পত্তির খবর শোনা মাত্রই তাদের বাড়ি স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঠিয়ে দেন বলে জানান। তিনি এও জানান হামদহ খোন্দকার পাড়ার এক কাস্টম কর্মকর্তার ছেলের বিষয়েও তথ্য নিতে তাদের বাড়িতে লোক পাঠানো হয়েছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকরা জানান, বিদেশ ফেরতদের কাছে করোনা মুক্ত সনদ থাকলেও তারা

ঝুকি মুক্ত নয়। কারণ তারা তো অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। সরকারের উচিৎ বিমান বন্দর থেকেই কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া উচিৎ। কিন্তু বিমান বন্দর থেকে কেবল তাদের মোবাইল ফোন নাম্বার রেখে ১৪ দিন বাসায় থাকতে পরামর্শ দেওয়া হলেও প্রবাসিরা যুক্কি, অজুহাত আর কাজ দেখিয়ে নিজ নিজ শহর বা গ্রামের পাবলিক প্লেসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

FIRDAUS FASHIONS


FIRDAUS FASHIONS

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি