২৭ জুলাই ২০২৬

কাঁচা মাছ খেয়ে এক মাস সাগরে ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে সেফ হোমে, কাল নেওয়া হবে ঢাকায়

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
কাঁচা মাছ খেয়ে এক মাস সাগরে ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে সেফ হোমে, কাল নেওয়া হবে ঢাকায়

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ভেসে থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই) আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে তাদের সড়কপথে ঢাকায় নেয়া হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার বাসিন্দা এস এইচ চামিন্দা (৫১) ও তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং (৩০)। পেশায় দুজনেই জেলে।

জানা যায়, প্রায় ৩৬ দিন আগে ৪ জন জেলে একটি ট্রলার নিয়ে শ্রীলঙ্কা উপকূল থেকে সমুদ্রে যান। বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সেটি আন্দামান সাগরের দিকে ভেসে যায়। তিন দিন পর অন্য একটি নৌকার সহায়তায় দুই জেলে শ্রীলঙ্কায় ফিরে গেলেও ট্রলারটি নিজেদের হওয়ায় বাবা ও ছেলে সেটিতেই অবস্থান করেন। এরপর সাত-আট দিন পর মিয়ানমারের কিছু লোক তাদের ট্রলারে উঠে দূরবীন, ক্যামেরাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়।

যাত্রার ৭ দিনের মাথায় মজুত খাবার শেষ হয়ে গেলে টানা ২৯ দিন সমুদ্রের কাঁচা মাছ ও বড়শির টোপ খেয়ে অলৌকিকভাবে জীবন বাঁচান তারা। ভাসতে ভাসতে একপর্যায়ে ট্রলারটি কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলের কাছে পৌঁছায়।

গত বুধবার গভীর সমুদ্রে কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার ট্রলারমালিক জিয়াউর রহমানের জেলেরা ইঞ্জিন বিকল ট্রলারটিতে দুই ব্যক্তিকে অসহায় অবস্থায় হাতজোড় করে আকুতি জানাতে দেখেন। এরপর তাদের উদ্ধার করে নিজেদের ট্রলারে তুলে নেয়া হয় এবং ট্রলারটি রশি দিয়ে বেঁধে শুক্রবার রাতে মহেশখালী উপকূলে আনা হয়।

প্রথমে জিয়াউর রহমানের বাড়িতে রাখা হলেও শ্রীলঙ্কান ভাষা না বোঝায় এক দুবাইপ্রবাসীর সহায়তায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে শনিবার রাতে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সুলতান জানান, পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে তাদের মহেশখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শ্রীলঙ্কায় ফেরত পাঠানোর আগপর্যন্ত তাদের সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দেন। গত দুই দিনে শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশ দূতাবাস, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগাযোগ করেছেন।

তবে উদ্ধার হওয়া তাদের ছোট ট্রলারটি শ্রীলঙ্কায় ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে ওসি বলেন, হাজার হাজার কিলোমিটার উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে এটি পাঠানো অবাস্তব। তাই আদালতের নির্দেশে গভীর সমুদ্র থেকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারটি টেনে আনা স্থানীয় ট্রলারমালিক জিয়াউর রহমানকে সেটি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি, কানেকটিকাট


সঙ্গীত একাডেমি, কানেকটিকাট

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি