কলকাতার রাজপথে শিক্ষার্থীদের ঢল
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে চলমান বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার দাবিতে এবার কলকাতার রাজপথে দেখা গেল বড় ধরনের ছাত্রসমাবেশ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর ডাকা মিছিলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, যুবক এবং বিভিন্ন আন্দোলনের সমর্থকেরা অংশ নেন। পৃথক কর্মসূচির অনুমতি না পেলেও বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনকারীরা শেষ পর্যন্ত এ মিছিলে যোগ দিয়ে একসঙ্গে অবস্থান নেন।
দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব দেশের অন্য শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে, কলকাতার এ কর্মসূচি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সাম্প্রতিক অনিয়মের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তুলে ধরা হয়।
শুক্রবার সকাল থেকেই শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের জমায়েত শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ছাড়াও সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন। মিছিলটি শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার দিকে অগ্রসর হলে রাজপথজুড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ জনস্রোত।
মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদী ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ মুখোশ পরে অংশ নেন। নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিছিল। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, দিল্লিতে যে আন্দোলন চলছে তা শুধু একটি শহরের বিষয় নয় বরং দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদেরও এ বিষয়ে সরব হওয়া প্রয়োজন।
জানা গেছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকটি সংগঠন পৃথকভাবে মিছিল করার অনুমতি চাইলেও পুলিশ তা দেয়নি। এরপর তারা বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গেই যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে একাধিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মিছিলটি আরও বড় আকার ধারণ করে।এ কর্মসূচিতে দিল্লিতে আন্দোলনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচির প্রতিও সংহতি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা পরিচালনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। মিছিলকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি শেষ হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার রাজপথে এত বড় ছাত্রসমাবেশ খুব কমই দেখা গেছে। দিল্লির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীদের এক মঞ্চে আসা ভবিষ্যতে আন্দোলনের বিস্তৃতির ইঙ্গিত বহন করতে পারে।শিক্ষা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এই ছাত্রসমাবেশ নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা তৈরি করেছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে সিদ্ধান্তে একদিন সময় চাইল মোদি সরকার: দাবি
মাত্র ৭ হাজার টাকায় শুরু, আজ ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্যের মালিক তরুণী
শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে লাখ টাকার কাছাকাছি পিজ্জা পাঠালেন ভারতীয় যুবক
সঙ্গীত একাডেমি, কানেকটিকাট
সঙ্গীত একাডেমি