কোনো দল ভেঙে দেওয়া আমার নীতি নয় : প্রধানমন্ত্রী
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: অন্য দল ভেঙে লোকজন নিজের দলে ভেড়ানোর নীতিতে বিশ্বাসী নন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
ব্রুনাইয়ে সদ্যসমাপ্ত রাষ্ট্রীয় সফর সম্পর্কে জানাতে শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কোনো দল ভাঙা আমার নীতি নয়। কোনো দল ভেঙে লোকবল বাড়ানোর প্রয়োজন আমার নেই। আমার দলেই প্রচুর লোকবল আছে।'
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা সরকারের চাপে এক এক করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বলে বিরোধীদলগুলোর যে অভিযোগ তার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার নয়, জনগণের চাপেই তারা শপথ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, যারা শপথ নিয়েছেন তাদের ওপর সরকারের কোনো চাপ নেই। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাদের নির্বাচনী এলাকা থেকেই শপথ গ্রহণে তাদের ওপর চাপ রয়েছে। এখানে সরকারের চাপ দেওয়ার কিছু নেই।
খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আগ্রহ আছে কি-না— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ প্যারোল চাইলে তাকে আবেদন করতে হবে। আর তার বিরুদ্ধে যে মামলা সেটা তো আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। মামলায় তার সাজা হয়েছে। এখন প্যারোলে মুক্তি পেতে চাইলে তাকে আবেদন করতে হবে। এটাই নিয়ম।'
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা জানাতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে বলুন, ব্যবস্থা নেব।'
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শ্রীলংকায় আত্মঘাতী বোমা হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, 'এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।'
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক ব্রুনাই সফর সম্পর্কে জানান। তিনি জানান, ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়ার আমন্ত্রণে তার তিনদিনের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই এবং কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ দিতে কূটনৈতিক নোট বিনিময় হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ব্রুনাই সফরকালে তিনি বলকিয়ার সরকারি বাসভবন ইস্তানা নূরুল ইমানের চেরাদি লায়লা কেনচানায় রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের ফোরামে বক্তব্য দেন এবং ব্রুনাইয়ের জামে আসর মসজিদ পরিদর্শন ও সুলতানের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন। দেশে ফেরার দিন মঙ্গলবার সকালে তিনি ব্রুনাইয়ের রাজধানী দারুস সালামের কূটনৈতিক এলাকা জালান কেবাংসানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিস্থাপন এবং রয়েল রেজালিয়া জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি