কৃতির পোশাক নিয়ে বিতর্কে কঙ্গনার পুরোনো বিজ্ঞাপন ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েক বছর আগের একটি বিজ্ঞাপনে কঙ্গনার পোশাকের ছবি সামনে এনে তাকে কটাক্ষ করছেন নেটিজেনরা। সম্প্রতি রক্ষাবন্ধনের একটি বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্যের পরই পুরোনো ওই বিজ্ঞাপনটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গয়নার ব্র্যান্ড নক্ষত্রের কয়েক বছর আগের রক্ষাবন্ধন উপলক্ষে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনে কঙ্গনাকে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের পোস্টারে তিনি স্ট্র্যাপলেস পোশাক পরেছিলেন, যার গলার অংশ ছিল বেশ গভীর। সম্প্রতি কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে কঙ্গনার সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা ওই পুরোনো বিজ্ঞাপনটি খুঁজে বের করে ছড়িয়ে দেন।
বিষয়টি নিয়ে এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী কুনিক্কা সদানন্দ। কঙ্গনার পুরোনো বিজ্ঞাপনের পোস্ট শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘মেরা কুত্তা কুত্তা, তেরা কুত্তা টমি?’ অর্থাৎ, নিজের ক্ষেত্রে এক রকম আর অন্যের ক্ষেত্রে আরেক রকম—এমন দ্বৈত মানসিকতার দিকেই ইঙ্গিত করেন তিনি।
এদিকে আরও কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী কঙ্গনাকে নিশানা করেছেন। একজন মন্তব্য করেন, তার ক্লিভেজ সাংস্কৃতিক ধাক্কা, আর আমার ক্লিভেজ সংস্কারী ক্লিভেজ। অন্য একজন লেখেন, তিনি নিজেই এমন পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করছেন, যেটিকে তিনি অশ্লীল এবং তার ধর্ম ও সংস্কৃতির জন্য হুমকি মনে করেন। কী ভীষণ ভণ্ডামি।
কঙ্গনা-কৃতির বাকযুদ্ধ
সম্প্রতি গয়না নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিআইভিএর রক্ষাবন্ধনের একটি বিজ্ঞাপনে কৃতিকে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনে তিনি ব্রালেটধাঁচের ব্লাউজ, কেপ ও ড্রেপড স্কার্ট পরেছিলেন। ঐতিহ্যবাহী রক্ষাবন্ধন অনুষ্ঠানে এমন ‘আধুনিক’ পোশাক পরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাংশ সমালোচনা শুরু করে।
এরপর কঙ্গনাও কৃতির পোশাক নিয়ে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, নারীদের জন্য এটি চমৎকার সময়। কারণ তাদের পোশাকে এখন নানা ধরনের বিকল্প রয়েছে—ককটেল ড্রেস থেকে লেহেঙ্গা-চোলি, জিনস থেকে শাড়ি, বিকিনি থেকে সালোয়ার-কামিজ। এরপর প্রশ্ন তোলেন, এত বিকল্প থাকার পরও কেন কেউ ভাইকে বিকিনি বা অন্তর্বাস পরে রাখি বাঁধবে? তার দাবি, বিজ্ঞাপনটি ইচ্ছাকৃতভাবেই অস্বস্তিকরভাবে তৈরি করা হয়েছে।
কঙ্গনার মন্তব্যের জবাবে কৃতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, উৎসবের মূল বিষয় পোশাক নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ ও ঐতিহ্যের অর্থ। নারীরা কী পরবেন, তা নিয়ে সমাজের ক্রমাগত প্রশ্ন তোলার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি। কৃতি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে পোশাকের ধরন বদলালেও একজন নারীর সংস্কৃতির প্রতি সম্মানকে এখনো তার পোশাক দিয়েই বিচার করা হয়। তার ভাষায়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মানুষের হৃদয়ে থাকে, পোশাকের গলার অংশে নয়।
বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার
বিতর্কের মধ্যেই জিআইভিএ বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিবারের পাশাপাশি পোষা প্রাণীদেরও ভালোবাসা ও উদযাপনের অংশ করার উদ্দেশ্য ছিল তাদের। তবে বিজ্ঞাপনটি সমাজের কোনো অংশের মানুষের অনুভূতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে থাকলে তারা দুঃখিত বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। সম্মানের কথা বিবেচনা করে সব মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।সূত্র: এনডিটিভি
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি