২২ জুন ২০২৬

কুড়িগ্রামে নদীভাঙনে বিপর্যস্ত ৩৫ এলাকা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার শঙ্কা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
কুড়িগ্রামে নদীভাঙনে বিপর্যস্ত ৩৫ এলাকা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার শঙ্কা

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: কুড়িগ্রামের দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে, জেলার অন্য সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার অন্তত ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর এই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পাউবো।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৭ মিটারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯৮ মিটার নিচে। তবে তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে ২৯ দশমিক ৬৮ মিটারে নেমেছে (বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৯ মিটার নিচে)।

অন্যদিকে, দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বেড়ে ২৮ দশমিক ৬১ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৮২ মিটার ও ২১ দশমিক ৪৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে, এই দুটি পয়েন্টেও পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরীতে ২৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়ায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী বাদাম খেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক চাষি লোকসান এড়াতে জমি থেকে অপরিপক্ব বাদাম তুলত বাধ্য হচ্ছেন।

পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলায় প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম পাউবো জানিয়েছে, এর মধ্যে ২০টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জেলায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি