২১ অক্টোবর ২০২৬

মাগুরায় যুবদল নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
মাগুরায় যুবদল নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দুর্বৃত্তের গুলিতে মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেন নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্তের সময় তাঁর মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। স্বজনের অভিযোগ, সাকেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সাকেরের (৪০) বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ১০টি মামলা হয়েছিল। গুলি পরীক্ষা ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
যুবদল নেতা সাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার প্রয়াত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল ভোরে সেই কাউন্টারে সাকেরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরে সাকেরকে মাগুরা ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে তার মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আবার হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়।

মাগুরা ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাইনুল হাসান সমকালকে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সাকেরের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন দেখে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে ময়নাতদন্তে তাঁর খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট পাওয়া যায়।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, গুলিটি কোন অস্ত্রের, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এটি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর হাসপাতালে গিয়ে সাকেরের স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্বজনরা বলেছেন, সাকেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মাগুরায় অবস্থানরত সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীও হাসপাতালে গিয়ে সাকেরের স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিচারের মুখোমুখি করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাকেরের বড় ভাই রাজমীর হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরে সাকেরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ১০টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল। তাঁর ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল বলে তারা জানেন না। যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সাকেরের শ্বশুর আব্দুল আজিজ বলেন, তাঁর জামাতা সাধারণ জীবন যাপন করতেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

ময়নাতদন্ত শেষে সাকেরের মরদেহ পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়ায় তাঁর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।
বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি