ম্যাসাচুসেটসের ব্রুকলাইনে নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত এমআইটির অধ্যাপক নুনো লোরেইরো
নোমান সাবিত: ম্যাসাচুসেটসের ব্রুকলাইনে নিজ বাসভবনে সোমবার রাতে সংঘটিত এক গোলাগুলির ঘটনায় এমআইটির অধ্যাপক নুনো লোরেইরো নিহত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে। পর্তুগালের নাগরিক লোরেইরো এমআইটির নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল ৪৭ বছর।
ব্রুকলাইন পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, সোমবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে গিবস স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে গুলির শব্দ পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
ব্রুকলাইন পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট পল ক্যাম্পবেল ডব্লিউবিজেড-টিভিকে বলেন, ঘটনাস্থলে এক ভুক্তভোগীকে পাওয়া যায়, যিনি একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
অ্যাম্বুলেন্সে করে লোরেইরোকে বোস্টনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান। ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানায়নি তারা কোনো সন্দেহভাজনের সন্ধান করছে কি না। ক্যাম্পবেল বলেন, এখনো কেউ হেফাজতে নেই।
নরফোক কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইকেল মরিসির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, 'এটি একটি সক্রিয় ও চলমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত।
এক প্রতিবেশী, যিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, বলেন তিনি সোমবার সন্ধ্যায় 'তিনটি জোরালো শব্দ' শুনেছিলেন।
তিনি বলেন, 'প্রথমে মনে হয়েছিল কেউ আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে দরজা ভাঙছে। পরে প্রতিবেশীদের ফোন করলে তারা জানায়, তারাও গুলির শব্দ মনে করেছে।
৪০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী অ্যান গ্রিনওয়াল্ড বলেন, তিনিও ও তাঁর স্বামী গুলির মতো শব্দ শুনেছিলেন।
তিনি বলেন, তাঁর একটি ছোট পরিবার ছিল, তাঁর সন্তানেরা এখানকার স্কুলে পড়ত। ঘটনাটি ভয়াবহ ও অত্যন্ত আতঙ্কজনক।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে নুনো লোরেইরোকে এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টারের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমআইটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই কেন্দ্রকে 'এমআইটির অন্যতম বৃহৎ গবেষণাগার' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে সাতটি ভবনে ২৫০ জনেরও বেশি পূর্ণকালীন গবেষক, শিক্ষার্থী ও কর্মী কাজ করেন।
এমআইটির এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের গভীর সমবেদনা তাঁর পরিবার, শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং যাঁরা শোকাহত—সবার প্রতি। অধ্যাপক লোরেইরোকে যাঁরা চিনতেন, তাঁদের জন্য সহায়তা ও যত্নের ব্যবস্থা করতে আমাদের কমিউনিটির ভেতরে নিবিড় যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।'
এমআইটির নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্লাজমা কীভাবে কাজ করে—বিশেষ করে টার্বুলেন্স এবং সৌর শিখা ও অন্যান্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার পেছনের পদার্থবিদ্যা এসব গবেষণার জন্য লোরেইরো সুপরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পরিচ্ছন্ন ‘ফিউশন শক্তি’ ব্যবহারের উপায় নিয়েও গবেষণা করছিলেন।
২০১৬ সাল থেকে তিনি কেমব্রিজভিত্তিক এই খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
২০১৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে লোরেইরো বলেছিলেন, 'পেশাগতভাবে এমআইটি আমাকে পুরোপুরি অভিভূত করে। আপনি এটি সম্পর্কে পড়েন, মানুষের কাছ থেকে শোনেন, কিন্তু নিজে অভিজ্ঞতা না নেওয়া পর্যন্ত এই জায়গাটি আসলে কেমন—তা পুরোপুরি বোঝা যায় না।'
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
২০ বছরের ডাক্তারি ছেড়ে রুটি বিক্রির ব্যবসায়, এখন সুখী সেই নারী
বাংলাদেশসহ আরও ১৯টি দেশের বিশেষায়িত ওষুধের ওপর শুল্ক মওকুফ করল যুক্তরাষ্ট্র।
সঙ্গীত একাডেমি