১০ জুন ২০২৬

নায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
নায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ

 

 

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বুধবার (১০ জুন) তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হবে এবং নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

আবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার বাদী মো. আলমগীর (৬৮) আদালত হতে তথ্য প্রদানকারী নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরীর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে জানান যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, বাদীর বোন জামাতা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তার ছোট ছেলে শাহরান শাহ্ সহ নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় তার ভাগিনা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহ’র সাথে দেখা করতে যান।

তখন স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদেরকে জানান যে, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তখন তারা তাদের গ্রিন রোডের বাসায় চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহ’র বাসা থেকে টেলিফোন করে জানানো হয়, সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, তাড়াতাড়ি আসেন। তখন তারা দ্রুত নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় এসে দেখেন যে, সালমান শাহ তার শয়নকক্ষে খাটের ওপর পড়ে আছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে তারা সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)।


বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি