২৭ আগস্ট ২০২৬

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে

 


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনও বিদেশি নাগরিক ও তীর্থযাত্রীসহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বন্যায় ৩৩২ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।

এর আগে স্থানীয় সময় ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগের আপডেটে মৃতের সংখ্যা ২৮৯ বলা হয়েছিল, যার কিছুক্ষণ পরেই এই আপডেটটি আসে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের হিসাবে ৮২৬ জন নিখোঁজ আছেন। যারমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

সংস্থাটি আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেছে, নিখোঁজদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৪ সদস্য, ২৮ পুলিশ সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর আরও ১৩ জন আছেন। অরপরদিকে বাকি ৬৪৪ জন পর্যটকের মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি এবং ১২৭ জন নেপালি।

এদিকে ধসে যাওয়া এলাকাগুলোতে নিখোঁজ শত শত মানুষের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। চীন জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা তিনেই রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, জীবন বাঁচাতে পালানোর চেষ্টাকালে ভেসে যাচ্ছে মানুষ, ভেঙে পড়ছে বাড়িঘর ও সেতু। বৃহস্পতিবার নেপাল থেকে ড্রোন ফুটেজে উঠে এসেছে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্চলের খাড়া উপত্যকাগুলো অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ও যোগাযোগের মূল পথ হলেও দুর্যোগের মুখে এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রলয়ঙ্কারী স্রোত বয়ে যাওয়ার পর নুয়াকোটের একাধিক ভবনের দোতলা পর্যন্ত কাদার আস্তরণে ঢেকে থাকতে দেখা গেছে। গাছের ডালপালা ও তারে ঝুলে আছে ধ্বংসাবশেষ, কাদার নিচে চাপা পড়েছে যানবাহন।

কাদা মেখে স্তম্ভিত হয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে কতিপয় বেঁচে যাওয়া মানুষকে। এই বন্যার কারণে বেশ কিছু এলাকায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। হঠাৎ করে নেমে আসা এই দুর্যোগে আত্মরক্ষার জন্য বাসিন্দারা খুব একটা সময় পাননি।

কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক নিরঞ্জন পৌডিয়াল জানান, প্রায় ২৫টি ঘরবাড়ি নিয়ে গঠিত নুয়াকোটের সোলি গ্রামটি একপ্রকার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নিখোঁজ পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের খবরের আশায় বৃহস্পতিবার তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। অত্যন্ত আকুল ও উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। আমার আশঙ্কা, হয়তো আর কোনও খবরই পাওয়া যাবে না।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি